বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, সুদের হার বর্তমান উচ্চস্তরে আরও কিছুকাল অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের জন্য ঋণের খরচ যে বাড়বে, তা নিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যে মুহূর্তে সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি ও ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের মতো চাপের মুখোমুখি, ঠিক সেই সময়ে সুদের হার আরও বাড়লে তাদের ওপর আর্থিক বোঝা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। হোম লোন, গাড়ির লোন বা ব্যক্তিগত ঋণ—সব ধরনের ঋণেই এই প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সুদের হার কমানোর পরিবর্তে দীর্ঘ সময় উচ্চ রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে যারা নতুন ঋণ নিতে চাইছেন বা বিদ্যমান ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছেন, তাদের জন্য বাড়তি খরচ অনিবার্য হয়ে দাঁড়াবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভসহ প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই কৌশল অব্যাহত রাখতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতিতে ভোক্তারা কীভাবে নিজেদের আর্থিক পরিকল্পনা সাজাবেন। ব্যয় সংকোচন এবং সঞ্চয়ের দিকে ঝোঁক বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়ার আগে বাড়তি সুদের হারকে বিবেচনায় রাখারও অনুরোধ জানানো হচ্ছে।