জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সিলেটে একটি পথসভা শেষে ফেরার পথে তাঁর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ তুলেছেন। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে জৈন্তাপুর থেকে সিলেট শহরে আসার সময় এই ঘটনা ঘটে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে গাড়ির জানালার কাচ ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা যায় এবং সেখানে দাবি করা হয় যে, এই হামলায় ভাঙা কাচের আঘাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তাঁর সহযাত্রী একজন আহত হয়েছেন, যাঁদের হাত থেকে রক্তপাত হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এনসিপি সিলেট জেলা শাখার সদস্যসচিব কামরুল আরিফ সংবাদমাধ্যমকে জানান, জৈন্তাপুরের জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে চলন্ত গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালানো হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হামলার জন্য কে বা কারা দায়ী, তা শনাক্ত করা যায়নি।
তবে পুলিশ এই পুরো ঘটনাকে অস্বীকার করেছে। জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, পুলিশি প্রহনায় দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের জৈন্তাপুরের সীমানা অতিক্রম করিয়ে দেওয়া হয় এবং তখন কোনো ধরনের হামলা হয়নি। তিনি অভিযোগটিকে 'সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য' বলে অভিহিত করেছেন। একই সুরে সিলেট মহানগর শাহ পরান থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানও জানিয়েছেন, তাঁর এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনার তথ্য তাঁদের জানা নেই।
পরে সিলেট সার্কিট হাউসে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও এনসিপি’র অপর নেতা সারজিস আলম এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বর্ণনা করেন, সমাবেশ শেষে ফেরার মাত্র তিন-চার মিনিটের মধ্যেই চলন্ত গাড়িতে প্রচণ্ড আঘাতে কাচ ভেঙে যায় এবং তিনি নিজে ও তাঁর সহযাত্রী আঘাতপ্রাপ্ত হন। এই ঘটনার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়ী করে বলেন, 'আপনি মস্ত বড় একটি ভুল করেছেন এবং এটির কাফফারা দিতে হবে।'
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক দিনে সিলেট অঞ্চলে এনসিপি নেতাদের ওপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার গোলাপগঞ্জে একটি মতবিনিময় সভা শেষে সারজিস আলমের গাড়িতেও দুই দফা হামলা হয়, যার দায় এনসিপি নেতারা ছাত্রদলের ওপর চাপিয়েছেন। এমনকি মঙ্গলবার হবিগঞ্জেও জুলাই পদযাত্রা চলাকালীন একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে।




