রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ বলেছেন, মৃত্যুর মুখোমুখি হলেও তাঁরা বাংলাদেশের সন্ত্রাসী রাজনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। শুক্রবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত দলীয় কর্মীদের দেখতে এসে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ ফুলবাড়ীতে দলীয় শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলার ঘটনাকে সন্ত্রাসী রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, জুলাই মাস এখনো চলছে এবং শহীদদের রক্ত এখনো শুকিয়ে যায়নি। অনেক আহত এখনও যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। জুলাই পদযাত্রায় অংশ নেওয়া এক তরুণের কথা উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইন্টারমিডিয়েটে পড়ুয়া ওই ছোট ছেলেটির উভয় চোখ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
জুলাই পরবর্তী সময়ে একটি সুস্থ ও সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা করলেও সেই আশা পূরণ হচ্ছে না বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি আক্রমণের নৃশংসতা দেখে প্রশ্ন তোলেন, এটি কোন ধরনের অমানবিকতা।
হামলাকারীদের উদ্দেশ্যে আতিক মুজাহিদ বলেন, “আমাদের মারতে চান, মেরে ফেলুন। সবাইকে মেরে ফেলুন।” তবে প্রাণের ভয় থাকা সত্ত্বেও এলাকাবাসীর পক্ষে কাজ করার প্রত্যয়ে অটল থাকার কথা জানান তিনি। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করি সরকারি দলের যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী, এখন দেখার বিষয় এই প্রশাসন আইনের প্রতি কতটুকু নিষ্ঠাবান।
আহত শাওনের অবস্থা সম্পর্কে মুজাহিদ জানান, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়, তবে সন্তোষজনকও বলা যাচ্ছে না। সে তার ডান চোখে ভালোভাবে দেখতে পায় না। এর পরিবারে বাবা নেই উল্লেখ করে এমপি আতিক বলেন, একজন এতিম সন্তানের প্রতি কোনো রকম উস্কানি ছাড়াই এধরনের আচরণ সভ্যতার পরিচায়ক হতে পারে না।




