ক্ষমতাসীন সরকারকে আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, পাঁচ মাসের মধ্যে দফায় দফায় জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। খুব অচিরেই সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিরোধ গড়ে উঠবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে হবিগঞ্জে সংঘর্ষে আহত এনসিপি কর্মী আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন নাহিদ ইসলাম। সেখানেই তিনি পেট্রোবাংলার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পরিকল্পনার সমালোচনা করে সেটি ঘেরাও করার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, আবাসিক পর্যায়ে কয়েক দিনের মধ্যেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পুরো জাতীয় অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে। ভোক্তারা যথাযথ গ্যাস পরিষেবা না পেলেও তাদের বাধ্যতামূলক বিল দিতে হচ্ছে।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ দৃঢ়কণ্ঠে বলেছেন, ৭০ শতাংশের গণঅভিমত অস্বীকার করে কোনো সরকারই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। টিকে থাকার একমাত্র পথ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা প্রশাসনের মতো কঠোর দমন-পীড়ন ও নিপীড়নের পথ বেছে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনগণকে সব ধরণের হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রস্তুত থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

সরকার কর্তৃক দলীয়করণের কড়া সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসানোর মাধ্যমে পদবঞ্চিত নেতাদের পুরস্কৃত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারি কাঠামোকে অপব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেন, যিনি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অনুশাসন দিতে অক্ষম, নিজ দলই যাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই, তাঁর পক্ষে বিশাল ১৮ কোটি মানুষের একটি জাতিকে পরিচালনা করা অসম্ভব।

অভিভাবকদের প্রতি সর্তর্ক বার্তা দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আপনাদের সন্তানেরা এই সরকার ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর কাছে মোটেও নিরাপদ নয়। আজ আলিফের চোখ নষ্ট হয়েছে, অনভাগ্যক্রমে আগামীকাল আপনাদের কারো সন্তানের চোখও নষ্ট হতে পারে। কারণ এই সব সন্ত্রাসী চক্র পুলিশ, আইন কিংবা কোনো বিচারব্যবস্থাকে মানতে রাজি নয়।’

আহত আলিফ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য দিয়ে তিনি জানান, এক চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে এবং পার্শ্ববর্তী চোখটিও কতটুকু আক্রান্ত হয়েছে তা বোর্ড সভার পর জানা যাবে। আহত হওয়ার তৃতীয় দিন অতিবাহিত হলেও সরকার পক্ষ থেকে এখনও কোনো ধরণের খোঁজ নেওয়া হয়নি, এ নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিও ফুটেজের বরাত দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আলিফের উপর হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের নামে মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এর মাধ্যমে এটাই প্রতিভাত হয়েছে যে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পুষ্ট ছাত্রদল ও যুবদলের সন্তাসী বাহিনী দিনদুপুরে যে কাউকে আক্রমণ করতে পারে এবং তার কোনো বিচার হয় না।

সংসদ সদস্যদের আচরণের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জের এমপি জি কে গউছের আর জনপ্রতিনিধি হিসেবে থাকা উচিত নয়। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত তিনি ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতেন অথবা দলীয়ভাবেই তাঁকে বহিষ্কার করা হতো। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টিতে এখনও নিরব, আর প্রধানমন্ত্রী স্কুলপড়ুয়া শিশুদের নিজের কার্যালয়ে ডেকে ফটোসেশনে ব্যস্ত। এটি জাতির প্রতি চরম দ্বিচারিতার প্রকাশ বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।