জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের রক্তের দায় অস্বীকার করলে ইতিহাস কখনও ক্ষমা করবে না বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। শুক্রবার রাজধানীর রায়েরবাজার গণকবরে জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি দোয়া ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের আয়োজন শেষে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

ফুয়াদের ভাষ্য মতে, অসংখ্য মানুষের প্রাণ বিসর্জন এবং অগণিত ব্যক্তির স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার মূল্যে বর্তমান প্রশাসন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কর্তৃত্ব পেয়েছে। তাই শহীদদের উত্তরাধিকার, আঘাতপ্রাপ্ত এবং পঙ্গুত্ব বরণ করা ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের বিষয়টি রাষ্ট্রের জন্য এক বিরাট অঙ্গীকারের বিষয়। তিনি অভিযোগের সুরে জানান, 'জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন'-এর অর্থ বিতরণ সম্পূর্ণরূপে স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই প্রতিকূলতার মধ্যেও শহীদদের পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনে রাষ্ট্রীয় তরফ থেকে কোনও সুস্পষ্ট ও কার্যকরী উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এই ব্যাপারে যেকোনো ধরনের কালকাঠামো পরিহার করে আশু অর্থনৈতিক এবং মেডিকেল সুবিধা সুনিশ্চিত করার জোর দাবি জানান এবি পার্টির এই নেতা।

রায়েরবর গণকবর ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে এখনও পর্যন্ত অগণিত নাম-পরিচয়হীন জুলাই শহীদের মৃতদেহ মজুত থাকার দাবি করে আসাদুজ্জামান ফুয়াদ জোর দিয়ে বলেন, এই অজানা শহীদ ব্যক্তিত্বকে দ্রুততর সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করা একান্ত অপরিহার্য। সেই সাথে তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের প্রতি তিনি জোর আবেদন জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে হবিগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনায় সমালোচনা জানিয়ে ফুয়াদ মন্তব্য করেন, বিরোধী রাজনৈতিকদের বিরুদ্ধে আক্রমণ ও সন্ত্রাসী কায়দার মানসিকতা অবিলম্বে পরিত্যাগ করা আবশ্যক।

এ আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃত্বদানকারী আবদুল হালিম খোকন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ছাত্রপক্ষের কর্ণধার মোহাম্মদ প্রিন্স এবং গণশিক্ষা ও পাঠাগার কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা আনোয়ার ফারুক সহ আরও অনেকে।