মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি আলোচনার টেবিলে না ফেরে, তবে আগামী সপ্তাহে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে। এরই মধ্যে, মঙ্গলবার ওয়াশিংটন সময় বিকেল ৪টা (২০:০০ জিএমটি) থেকে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ ও শতাধিক সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সেন্টকমের ভাষ্য, এসব বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা চালায়। তার জবাবে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়ে থাকে। এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ জারি করলে ইরানের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজের প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। তবে জুন মাসে两国 একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করলে সেই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

কিন্তু সমঝোতা সত্ত্বেও উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা পুরোপুরি থামেনি। তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে এবং থেমে থেমে আক্রমণ চালিয়েছে। গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই ওই সমঝোতার আওতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বাতিল করেন ট্রাম্প। এরপর তিনি পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেন।

শুধু অবরোধই নয়, টানা চতুর্থ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা আরও দুর্বল করতেই এসব হামলা পরিচালিত হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো সি-ড্রোন ব্যবহার করে ইরানের নৌঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে।

অপরদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী বুধবার ভোরে জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন অবস্থানগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পেন্টাগন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এ ছাড়া, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব দাবি যাচাই করতে পারেনি। সামগ্রিকভাবে এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।