মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের অভিঘাতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এক্সনমোবিল ও শেভরন চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তাদের মুনাফায় অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই, ২০২৬) প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় কোম্পানি দুটি। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বেধে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে ধাক্কা লাগায় অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে, যার প্রত্যক্ষ ফায়দা তুলতে পেরেছে এই জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলে সমুদ্রপথে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হয় এবং সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর ব্যারেলপ্রতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়, যা এক্সনমোবিল ও শেভরনের বিক্রয় রাজস্ব এবং নিট মুনাফাকে ত্বরান্বিত করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, জ্বালানি খাতের মুনাফা আরও বাড়বে।
ইতিমধ্যে ওয়াল স্ট্রিটেও শক্তির স্টকগুলোর দর বেড়েছে। এক্সন ও শেভরনের সিও অনুমান করছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতির সুবাদে আগামী প্রান্তিকগুলোতেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। তবং পরিবেশবিদরা এ ধরণের যুদ্ধ-নির্ভর মুনাফার সমালোচনা করে বলছেন, অস্থিতিশীলতার সুযোগে তেল কোম্পানিগুলো অকাতর মুনাফা করে যাচ্ছে, অথচ সাধারণ ক্রেতাদের জ্বালানি মূল্য কেবলই বেড়েই চলেছে।




