যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের সাতটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানি, যা 'ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন' নামে খ্যাত, তাদের ওপর বিনিয়োগের অত্যধিক নির্ভরশীলতা নিয়ে উদ্বেগ পুনরায় মাথাচাড়া দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ভিন্ন পথ খুঁজতে শুরু করেছেন। জ্যানাস হেন্ডারসনের পোর্টফোলিও ম্যানেজার জকিয়ান ম্যানেমানস জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ এখন আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে সরছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন'-এর মজবুত পারফরম্যান্সের কারণে গত কিছু সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এক ধরনের স্বস্তি বিরাজ করছিল। কিন্তু এখন সেই গুটিকয়েক প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর বাজারের অতিমাত্রায় নির্ভরতার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগছত্র (পোর্টফোলিও) ছড়িয়ে দেয়ার কৌশল হিসেবে আবারও বিদেশি কোম্পানিগুলোর দিকে নজর ফেরাচ্ছেন।

পোর্টফোলিওর ঘানি পরিচালক জানান, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজার দীর্ঘদিন ধরে সেরা আয় দিয়ে আসায় বিনিয়োগকারীরা আন্তর্জাতিক খাতকে উপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু এখন পুনরায় আন্তর্জাতিক ইক্যুইটিতে আকর্ষণ তৈরী হচ্ছে। তিনি কিছু নির্দিষ্ট খাত ও অঞ্চলের প্রতি ইঙ্গিত করলেও, বিস্তারিত বিশ্লেষণে মুনাফা অর্জনের সুযোগ থাকতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন।

যদিও প্রতিবেদনে সরাসরি কোন কোম্পানি বা দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে পোর্টফোলিও ম্যানেজারের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে বিনিয়োগের এই গতিপরিবর্তন বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে নতুন সুযোগ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সৃষ্টি করবে। মার্কিন প্রযুক্তি শেয়ার থেকে প্রাপ্ত তহবিল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করলে সেটি বিভিন্ন খাতের মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।

সার্বিকভাবেহ, 'ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন' এর ভবিষ্যৎ কর্মক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং এআই খাতের সম্ভাব্য ধীরগতির প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীরা পুনরায় তাদের কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছেন। জ্যানাস হেন্ডারসনের এই পোর্টফোলিও পরিচালকের পরামর্শ, আন্তর্জাতিক বাজারে বৈচিত্র্যকরণের এ ধারা অদূর ভবিষ্যতে আরও বেগবান হতে পারে।