রাজধানীর সন্নিকটে সাভার উপজেলার আশুলিয়ার একটি মুদিদোকানে ফেলে রেখে যাওয়া একটি ভ্রমণব্যাগের ভেতর বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি বোমা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একটি বিশেষজ্ঞ দল সেটিকে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়।

আশুলিয়া থানার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে চারাবাগ এলাকার দোকানটিতে এক ব্যক্তি কোমল পানীয় কিনতে এসেছিল। তার পরনে ছিল মুখোশ। ক্রেতা পণ্যটির মূল্য পরিশোধ করতে দোকানদারকে ২০০ টাকার একটি নোট দেন। কিন্তু দোকানির কাছে কোনো ভাঙতি না থাকায় তিনি পাশের দোকানে গিয়ে টাকাটি খুচরো করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রত্যাবর্তনের পর তিনি দেখতে পান, অপরিচিত ক্রেতাটি সেখান থেকে চলে গিয়েছে এবং তার সঙ্গে আনা তালাবন্ধা একটি ভ্রমণব্যাগ দোকানের ভেতরই পড়ে রইছে।

দীর্ঘ সময় অতিাহিত হওয়ার পরেও যখন ব্যাগটির মালিক ফিরে আসেননি, তখন দোকানদার স্থানীয় জনগণের সাথে যোগাযোগ করেন। সন্দেহবশত ব্যাগ খোলা হলে দেখা যায়, ভেতরে একটি প্রেশার কুচ রয়েছে যা কচটেপ দিয়ে মোড়ানো। বিষয়টিকে অস্বাভাবিক গণ্য করে দ্রুত আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ি যোগাযোগ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুরো জায়গাটি ঘিরে ফেলে।

প্রাথমিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ওই ব্যাগে রাখা স্কটটেপ দিয়ে জড়ানো কুকারটিতে প্রকৃতই বিস্ফোরক দ্রব্য আছে। এই তথ্য সঙ্গে সঙ্গেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার কাছাকাছি সময়ে, আশপাশের সমস্ত এলাকা খালি করে ফাঁকা একটি মাঠের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার পর সিটিটিসির বিশেষায়িত দল সেটিকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়।

এ প্রসঙ্গে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম একটি দৈনিককে জানান, পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই সফল্য ব্যক্তিটিকে শনাক্ত করতে ও গ্রেফতারের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চলছে।