বিদেশে উচ্চ আয়ের চাকরি ও অভিবাসনের সুযোগ দেওয়ার নাম করে সংঘবদ্ধ প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্র্যেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গত মঙ্গলবার বিকালে নীলফাম্পারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্র্যতার করা হয়। গ্র্যতারকৃতরা হলেন মারিফুল ইসলাম (২১) ও বাচ্ছা বাউ ওরফে হাসিনুর (২৮)। ডবর উত্তর বিভাগের সাইবার ও বিশেষ অপরাধ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে এই অভিযান চালায়।

ঢাকা মহানাগর পুলিশের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী শুক্রবার এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৭২ জনেরও বেশি ব্যক্তি এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অভিযানের সময় প্রতারকদ্বয়ের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, ৭টি মোবাইল ফোন, ১৩টি সিম ও ৯টি জাল বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, প্রতারণার ফাঁদে পা দেওয়া এক ভিক্তিম মো. ছায়েদুল হকের অভিযোগের পর এ ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা সামাজিক মাধ্যমেঅস্ট্রেলিয়ায় আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করে। তাদের বিশ্বাস করে ছায়েদুল হক মেডিক্যাল ফি, ভিসা প্রক্রিয়াজাতকরণ ফি ও ডকুমেন্ট চার্জ ইত্যাদি খাতে ধাপে ধাপে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে আরও অর্থ চাওয়া হলেও বিদেশ পাঠানোর কোনো অগ্রগতি না দেখে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিত কৌশল গ্রহণ করেছিল। তারা ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা আবেদন অনুমোদনের চিঠি ও কানাডার লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (এলএমআইএ) তৈরি করত। একই সাথে, অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটের হুবহু নকশায় একটি ভুয়া ভিসা ভেরিফিকেশন পোর্টালও তৈরি করেছিল। এই নকল ওয়েবসাইটে কোনো পাসপোর্ট নম্বর প্রবেশ করালে ভিসা অনুমোদিত হয়েছে মর্মে একটি বার্তা দেখা যেত, যাতে ভুক্তভোগীদের কোনো সন্দেহ না হয়।

জব্দ করা ডিজিটাল সরঞ্জাম পরীক্ষা করে প্রতারণার সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও তথ্যপ্রমাণ, বিভিন্ন ভুক্তভোগীর তথ্য, মোবাইলে ব্যাংকিং লেনদেনের রেকর্ড এবং ভূয়া ভিসা সংক্রান্ত নথি আবিষ্কার হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগের ধারণা, গ্র্যতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিদেশগামী চাকরিপ্রার্থীদের টার্গেট করে একই পদ্ধতিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। বর্তমানে এই প্রতারক নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত ও গ্র্যতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।