রাজধানীর মতিঝিল এলাকার আলোচিত অস্ত্র মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তানিম রেজা বাপ্পি (৪৬) ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া রিজনকে (৩৫) শুক্রবার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই দুজন আসামি রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন মাছুম এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, “প্রথমে চাঁদাবাজির মামলায় আসামি দুজন সাত দিনের রিমান্ডে ছিল। পরে অস্ত্র আইনের মামলায় তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এই রিমান্ড মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ তাদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন আদালত মঞ্জুর করেছেন।”
পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে দেওয়া আবেদনে ব্যক্ত করা হয়, আপিল বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং মামলার অনুসন্ধান অব্যাহত রইল। এছাড়াও পুলিশের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘ মেয়াদে আত্মগোপন করার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জামিনের আবেদন নাকচ করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের হাজতে রাখার জন্য আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর অনুমোদন দেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুলাই সকালে পূর্বাণী হোটেল সংলগ্ন স্থান থেকে তানিম রেজা বাপ্পিকে এবং দুপুরে উত্তর কমলাপুর থেকে রাকিবুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির কার্যালয়ে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, দুটি বিদেশি পিস্তল, রিভলবারের পাঁচ রাউন্ড গুলি, পিস্তলের দুটি গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শকগান ও একটি বিদেশি চায়নিজ কুঠার জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারের আগে ঘটনাটি সূত্রপাত হয় ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলা। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ইসমাইল হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী ও মতিঝিলের বাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের পাশে কোরবানির অস্থায়ী পশুহাটের ইজারাদার। ১৫ মে রাত সাড়ে ১১টার সময় মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে আসামি এক কে আসামি ফোন করেন। তিনি গরুর হাটে নিজের নিয়োগকৃত ব্যক্তিকে অংশীদার রাখতে চাপ সৃষ্টি করেন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পাশাপাশি টাকা না দিলে এবং তাদের লোককে কাজে না নিলে হালি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ১৯ মে ভোররাতে দুর্বৃত্তরা ইসমাইল হোসেনের অফিসে গুলি ছুড়ে বলে তাঁর ভাগনে হৃদয় ফোনে জানান। এ সবকিছু মিলিয়ে ২০ মে ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি অস্ত্র মামলা রুজু করে। চাঁদাবাজি মামলায় পরের দিনই তাদের সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল।




