রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সঞ্চয়ী হিসাব খোলার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের প্রায় ৯২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী এক গ্রাহকের দায়ের করা মামলায় পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসসহ মোট ১৩ জনকে আগামী ৩ নভেম্বর আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বাদী নাছরিন আক্তার, যিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা, তিনি দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় এই মামলাটি করেন। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতের বিচারক হায়দার আলী বৃহস্পতিবার অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ প্রদান করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন— লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, পিএলআই এজেন্ট মাহবুব মৃধা, আরেক লেটার রাইটার মাহবুবুর রহমান, পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাসান, ট্রেজারার পবিত্র কুমার সরকার, এমএলএসএস রেজাউল আলম, পোস্টাল অপারেটর গোলাম মোস্তফা বাচ্চু, এস এম নুরুজ্জামান ও আসমা আক্তার, প্যাকার-কাম-মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস, এবং ডাকঘরের দুই কর্মচারী নুরুল মাসুদ ও রোকসানা আক্তার।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মূল পরিকল্পনাকারী লেটার রাইটার শিহাব মৃধা। তিনি পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিলের অপব্যবহার করে ৬১ জন গ্রাহকের থেকে এই বিপুল অংকের টাকা সংগ্রহ করেন। কিন্তু সেই অর্থ সরকারি কোষাগারের পরিবর্তে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতারণার শিকার হয়ে ভুক্তভোগীরা অর্থ ফেরতের দাবিতে ডাকঘরের সামনে একাধিকবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অভিযুক্ত পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে ইতিমধ্যে কুষ্টিয়ায় বদলি করা হয়েছে।
ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, 'লেটার রাইটার' কোনো স্থায়ী বা রাজস্বভুক্ত পদ নয়। কাজের সুবিধার্থে অস্থায়ী ভিত্তিতে কিছু ডাকঘরে এদের নিয়োগ দেওয়া হয়। মূল অভিযুক্ত শিহাব মৃধা রাজবাড়ী সদর উপজেলার রশোড়া বাঘিয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। অভিযোগের তদন্তে ১২ জুলাই কুষ্টিয়ার বিভাগীয় ডাক কর্মকর্তারা রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘর পরিদর্শনে গেলে শিহাব মৃধাকে সেখানে পাওয়া গেলেও তাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সমর্পণ করা হয়নি। পরে সেখান থেকে পলায়ন করেন তিনি এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এই আর্থিক অনিয়মের স্বপক্ষে তদন্তের জন্য ১৬ জুলাই খুলনার দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয় চার সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে। একই অভিযোগের ওপর কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ও আরেকটি পৃথক কমিটি গঠন করেছিল, যা ইতোমধ্যে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের নতুন পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, ২০২১ সাল থেকে শিহাব মৃধা একজন 'হেল্পিং হ্যান্ডস' হিসেবে লেটার রাইটারের কাজ করছিলেন। তিনি রাষ্ট্রীয় রাজস্ব দ্বারা বেতনভুক্ত কর্মী নন। অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয় এবং তাদের নির্দেশনা মোতাবেক তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। তদন্তের পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পেলেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




