দেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সব কলেজে ‘সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। আজ রোববার রাজধানীর লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজে আয়োজিত সাইবার সুরক্ষা বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ এই উদ্যোগের কথা জানান। অনুষ্ঠানেই তিনি লালমাটিয়া কলেজের সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের ধরনও জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। অনলাইন জালিয়াতি, ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া, পরিচয় চুরি, আর্থিক প্রতারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার আজ ব্যক্তি ও সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতার গুরুত্ব ততই বেড়ে চলেছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

উপাচার্য তার ভাষ্যে বলেন, কোনো দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা তখনই সার্থক হয়, যখন তার নাগরিকেরা নিরাপদ ও দায়িত্বশীল উপায়ে প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম হন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সাইবার নৈতিকতা, তথ্য সুরক্ষা এবং ডিজিটাল আচরণবিধি সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা থাকা জরুরি। তিনি আরও বলেন, সচেতনতার অভাবেই বেশির ভাগ মানুষ সাইবার অপরাধের শিকার হন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সুলতানা মাহমুদা ইয়াসমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন। সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা ও বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. মাহবুবুল আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটির প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ বিন কাশেম।

সেমিনারে বক্তারা আরও বলেন, আইসিটি পড়ানো হয় গণিত, ব্যবসায় শিক্ষা ও পদার্থের শিক্ষকদের দিয়ে, অথচ ব্যবহারিক ক্লাস অনিয়মিত থাকে। এ সমস্যা সমাধানে সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। এই ক্লাবগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সাইবার নিরাপত্তার বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে পারবে এবং নিজেদের ও অন্যদের সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবে।