ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সরকার মেনে নেওয়ায় অবশেষে যন্তর মন্তর থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল শনিবার এই ঘোষণার পর থেকেই বিক্ষোভস্থলে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ধীরে ধীরে স্বেচ্ছাসেবীরা সবাইকে স্থান খালি করার আহ্বান জানান। লাউডস্পিকারে বারবার ঘোষণা দেওয়া হয়। কাঁধে ব্যাকপ্যাক, গুটিয়ে রাখা বিছানাপত্র, হাতে প্ল্যাকার্ড ও পতাকা নিয়ে সারিবদ্ধভাবে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের। এরই মধ্যে মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক হয়, সড়ক খুলে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তাকর্মীরাও এলাকা ছাড়তে শুরু করেন।
বিহারের গয়ার বাসিন্দা বিদ্যাভূষণ কুমার টানা ৩৬ দিন ধরে যন্তর মন্তরে অবস্থান করছিলেন। তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি সহিংস রূপ নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিক্ষোভস্থলে ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে তাঁর বাড়ি ছেড়ে দূরে এসে রাস্তায় কাটানো সময় ও কষ্ট সার্থক হয়েছে বলে জানান তিনি। বিদ্যাভূষণ বলেন, সম্প্রতি বিহারে সহকারী শিক্ষা উন্নয়ন কর্মকর্তা (এইডিও) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর ফেরার পথে জানতে পারেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়েছে। তিনি বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ভাবলেও নিজেকে সামলিয়ে নিয়েছেন এই ভেবে যে ফিরে গেলে কী পাবেন—একটি ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা।
উত্তর প্রদেশের বেরেলির ২০ বছর বয়সী নিট পরীক্ষার্থী দেবাশীষ প্রথমবার পরীক্ষায় প্রায় ৫৬০ নম্বর পেলেও পুনঃপরীক্ষায় মাত্র ৪১০ নম্বর পেয়েছেন। মা-বাবার উৎসাহে তিনি আন্দোলনে যোগ দেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের জয় হয়েছে।’ এবার তিনি বাড়ি ফিরে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করবেন।
শুধু পরীক্ষার্থীরাই নয়, আন্দোলনে অংশ নেন সাধারণ মানুষও। কোঝিকোড় থেকে ৭৬ বছর বয়সী অজিথা কে তিন দিন আগে যন্তর মন্তরে আসেন উদ্দীপনা অনুভব করতে। গুরুগাঁওয়ের গৃহিণী মালিকা তাঁর ১১ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে আসেন জেন-জি প্রজন্মকে ধন্যবাদ জানাতে। তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দল ঘিরে নয়, বরং জবাবদিহির প্রশ্ন।
দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়া মোহাম্মদ নাভেদ খান ২০ জুলাই পুলিশের অভিযানে আহত হন। চারটি সেলাই লাগলেও চিকিৎসা নিয়ে তিনি আবার বিক্ষোভের মঞ্চ পুনর্নির্মাণে যোগ দেন। তাঁর মতে, যে পুলিশ সদস্য লাঠি দিয়ে আঘাত করেছিলেন, তিনি মুখে মাস্ক পরেছিলেন।
স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসাশিবিরে কাজ করেন ১৯ বছর বয়সী নিট পরীক্ষার্থী কৃষ্ণ বিশ্বাস। তিনি আহতদের ব্যান্ডেজ ও ওষুধ দিতে সহায়তা করেন। এখন তাঁর আশা ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের পথ খুলে যাবে। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার পিএইচডি গবেষক সুরজ এলামন স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) দিল্লি রাজ্যের সভাপতি। প্রথম দিন থেকেই তিনি যন্তর মন্তরে ছিলেন। তাঁর মতে, একটি ছাত্র আন্দোলন কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, এটি তারই প্রকৃত প্রতিফলন।
মধ্যপ্রদেশের ২৮ বছর বয়সী মানবীর আন্দোলন শুরুর পর থেকেই যন্তর মন্তরে অবস্থান করছিলেন। শনিবার বিকেলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর আসার পর উল্লাস শুরু হলেও সন্ধ্যার মধ্যে তিনি লাউডস্পিকার ধরে সবাইকে স্থান খালি করার আহ্বান জানান। সরকারের প্রতি ‘আস্থা রেখে’ আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে ককরোচ পার্টি। এখন সবাই বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।




