চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যয়নরত তাহিয়া তাবাসসুম সম্প্রতি জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ফিজিওলজিক্যাল সায়েন্সেস (এনআইপিএস)-এ গবেষণা ইন্টার্নশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া এসএসসি পাস করেন সাউথ সন্দ্বীপ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবং উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ওই সময় থেকেই চাচা মিজানুর রহমানের অনুপ্রেরণায় গবেষক হওয়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন তিনি।
প্রথম বর্ষ থেকেই গবেষণার সুযোগের সন্ধান করছিলেন তাহিয়া। তাঁর ভাষ্য, ‘স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণাগারে প্রবেশের পথ সীমিত। প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্যাদি সংগ্রহ করাও দুষ্কর। গবেষণায় স্বল্প বরাদ্দের কারণে বড় প্রকল্পে কাজ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তখনই বুঝতে পারি, এটি শুধু আমার বিভাগের সমস্যা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক গবেষণা পরিকাঠামোর দুর্বলতা। তাই স্নাতক শেষ করার আগেই বিদেশের কোনো গবেষণাগারে কাজ করার ইচ্ছা জোরালো হয়। নিয়মিত বিভিন্ন দেশের ইন্টার্নশিপের খোঁজ করতাম।’ দ্বিতীয় বর্ষে বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষার্থী জাপানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাওয়ার খবর তাঁকে আরও উৎসাহিত করে। এরপর থেকেই পরিকল্পিতভাবে নিজেকে গড়ে তোলা শুরু করেন।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াড আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাহিয়া। তিনি ‘নেটওয়ার্ক অব ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্টস’ (এনওয়াইবি)-এর সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপনা করেছেন। মানবদেহের জিনগত রোগ নিয়ে গবেষণা করে পোস্টার উপস্থাপনার জন্য পেয়েছেন পুরস্কার। সংগঠনের কাজে যুক্ত থেকে নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতা অর্জন করেছেন। পাশাপাশি পড়াশোনায়ও ছিলেন সমান মনোযোগী। তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩ দশমিক ৮৩।
২০২৫ সালের শেষের দিকে ওয়েবসাইট ঘেঁটে ও সিনিয়রদের পরামর্শে জাপানের ইন্টার্নশিপ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। শিক্ষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করেন। চলতি বছরের মার্চে জাপানের গবেষণাগার থেকে ই-মেইলে সুখবর আসে। প্রথমে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি। কারণ প্রতিবছর দক্ষিণ এশিয়া থেকে মাত্র দুই থেকে তিনজনকে বেছে নেওয়া হয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও কয়েক বছর পরপর একজন নির্বাচিত হন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বরে ইন্টার্নশিপে যোগ দেবেন তিনি।
তিনি কাজ করবেন মলিকুলার নিউরোইমিউনোলজি ল্যাবে। বর্তমানে আলঝেইমার, স্মৃতিভ্রম ও চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণহীনতার মতো স্নায়বিক রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এগুলোর নিরাময়ে এখনও কার্যকর প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। ভবিষ্যতে মলিকুলার জেনেটিকস নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা পোষণ করেন তাহিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রচুর সুযোগ থাকলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সেগুলো সম্পর্কে জানে না। তাই সুযোগ খোঁজার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং সিনিয়রদের সংস্পর্শে থাকতে হবে। প্রস্তুতি যত ভালো, সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।’




