বাগেরহাটের মোংলা এলাকায় সংঘটিত একটি ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর মামা অভিযোগপত্রে বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, মেয়েটির জন্মের আগেই তার বাবা মৃত্যুবরণ করেন এবং পরবর্তীতে মায়ের অন্যত্র বিবাহ হয়ে যাওয়ায় সে দাদা-দাদির কাছেই বড় হতে থাকে। গত রোববার একটি ঘেরে শাপলা তুলতে গেলে অভিযুক্ত সুমন সিকদার (৩৫) মাছ দেওয়ার কথা বলে তাকে সেখানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি গোপন রাখতে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাণনাশের হুমকি দেয়। প্রথমদিকে অসুস্থতা ও ভয়ের কারণে বিষয়টি পরিবারের অজানা থাকলেও পরবর্তীতে মেয়েটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সবকিছু প্রকাশ পায়। সামাজিক লজ্জার ভয়ে প্রাথমিকভাবে পরিবারের কেউ থানায় যেতে রাজি না হলেও অবশেষে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তকে আটক করে।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার অভিযুক্ত সুমন সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযুক্তের স্থায়ী ঠিকানা মোংলা পৌর শহরে। শনিবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। একইদিন বিকেলে আদালতে হাজির হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ওই কিশোরী জবানবন্দি প্রদান করে। হাসপাতালে মেয়েটির সঙ্গে তার মামাও উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করছেন যে মামলা প্রত্যাহারের জন্য অভিযুক্তের স্বজনরা ধারাবাহিকভাবে হুমকি-ধমকি ও চাপ প্রয়োগ করছেন। তাদের বলা হচ্ছে, বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়া হোক; অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে ভয় দেখানো হচ্ছে। যদিও অভিযুক্ত সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবু তার মামা আল-আমিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান যে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়ায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাদীর পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশ বর্তমানে অবগত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে যদি কোনো ব্যক্তি এ ধরনের হুমকি বা চাপের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।