রাজধানীর সবুজবাগে এক তরুণীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের গতি এখন আদালতের রিমান্ড আদেশের মাধ্যমে নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ৬ আগস্ট সকাল নয়টার দিকে সবুজবাগ থানাধীন বাগানবাড়ী কালভার্ট এলাকার একটি গরুর ফার্মসংলগ্ন সেতুর নিচে অজ্ঞাতনামা এক নারীর খণ্ডিত মাথা ও পলিথিনে মোড়ানো দুই হাত পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায়। সেগুলো উদ্ধার করার পর শুরু হয় নিহতের পরিচয় শনাক্তের জটিল কাজ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় উদঘাটন করা সম্ভব হয়। তাঁর নাম ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী, বয়স ১৯ বছর। পরে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে খণ্ডিত মাথার ছবি ও দুই হাতে থাকা বিশেষ উল্কি বা ট্যাটু দেখে তাঁরা মরদেহটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করেন।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে উঠে এসেছে ঘটনার পূর্বাপর বিস্তারিত তথ্য। মামলার নথি ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ৩ আগস্ট রাত সাড়ে নয়টার দিকে ভুক্তভোগী ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী, তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে বাগানবাড়ী কালভার্টের ওপর একত্রে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে ওই আসামিরা ভুক্তভোগীকে কৌশলে অজানা একটি স্থানে নিয়ে যান বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এর ঠিক পরদিন, ৪ আগস্ট রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ২ নম্বর আসামি ফারুক ও ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য আসামিরা ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আবার বাগানবাড়ী কালভার্টের ওপর ফিরে এসে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন। সেখান থেকে পরে প্রত্যেকে যাঁর মতো করে আলাদাভাবে চলে যান বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, স্থানীয় সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তারকৃতদের পূর্ববর্তী স্বভাব-চরিত্র পর্যালোচনা এবং ঘটনার চারপাশের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে উল্লিখিত পাঁচ আসামি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এরপর তাদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আসামিদের থানার পৃথক পৃথক এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাদের চিহ্নিত করা হয় এবং গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতরা হলেন—নুসরাত জাহান সাহিদা (১৯), ফারুক ওরফে জামাই ফারুক (৪৫), মো. সুজন (২০), মো. মামুন (২০) ও মো. রাফি ইসলাম ওরফে বাপ্পি (১৯)।

আজ শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে পাঁচ আসামিকে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূরে আলম সিদ্দিকী তাদের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মামলার ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত করা, তাদের অবস্থান ও ঠিকানা সংগ্রহ করা এবং পরবর্তী গ্রেপ্তারের জন্য এই রিমান্ড অত্যন্ত প্রয়োজন।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী আরও জানান, লাশ উদ্ধারের পর ৬ আগস্ট সবুজবাগ থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বর্তমানে ছুরাইয়া আক্তার হত্যার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি অপরাধীদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।