রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার জামতলা বাজার এলাকার একটি টিনের বসতঘর শনিবার বিকেলে ঘিরে রাখেন পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা। বাড়ির উঠানে নিহতের বাক্‌প্রতিবন্ধী বাবা খালেক শেখ কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। পাশের একটি ঘরে আহাজারি করছিলেন নিহতের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জোসনা খাতুন। একই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকা এক নারী অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিলেন। ঘটনাস্থলে ফরিদপুর থেকে আসা সিআইডির একটি দল বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

ঘটনার শিকার ফারুক শেখ (৪০) জামতলা বাজার এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। দৌলতদিয়া পূর্ব পাড়ায় তাঁর একটি চায়ের দোকান রয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার বেলা দুইটার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাঁর নিজের বাড়িতে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা তিনটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, শুক্রবার রাতে ফারুক তাঁর দোকানে ছিলেন। শনিবার সকাল ছয়টার দিকে বাড়ি ফিরে নিজের কক্ষে বিশ্রাম নিতে ঘুমিয়ে পড়েন। স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে তিনি একা বসবাস করতেন। তাঁর আরও দুই ভাই পরিবার-পরিজন নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া দেওয়া আছে। নিহতের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জোসনা খাতুন জানান, শনিবার বেলা একটার দিকে জরুরি প্রয়োজনে তিনি বাড়ির বাইরে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর ফারুকের মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত ফিরে আসেন। ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিহতের বাঁ হাতের কবজি ও ডান হাতের কনুইয়ের অংশ ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল। মুখ ও বুকের বাঁ পাশে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ছয়-সাত মাস আগে একবার বাড়িতেই ফারুকের ওপর হামলা হয়েছিল বলেও স্বজনরা উল্লেখ করেন। ফারুক শেখ ছয়টি বিয়ে করলেও একে একে সব স্ত্রীই তাঁকে ছেড়ে চলে যান। পরিবারের সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি বিবাহের কথা জানেন।

ফারুকের বড় ভাই বারেক শেখ জানান, খুনিদের সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণা নেই। তিনি পুলিশকে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার অনুরোধ জানান। শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ঘরটি পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা ঘিরে রেখেছেন। বাড়ির উঠানে বাক্‌প্রতিবন্ধী বাবা খালেক শেখ কাঁদছিলেন। অন্য একটি ঘরে জোসনা খাতুন আহাজারি করছিলেন। ভাড়াটে নারী তখনও অচেতন অবস্থায় ছিলেন। বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছিল।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, হত্যার কারণ কী এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, পুলিশ ও সিআইডি বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।