কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ক্লড কি সত্যিই নিজস্ব চিন্তাশক্তি রাখে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, ক্লড মডেলটি কোনো প্রশ্নের উত্তর হাজির করার আগে বিভিন্ন তথ্য নিজে নিজেই বিশ্লেষণ করে। তবে সেই বিশ্লেষণের পুরো অংশ উত্তর হিসেবে প্রকাশ করে না মডেলটি।
গবেষকরা জানিয়েছেন, আধুনিক লার্জ ল্যাংগুয়েজ মডেলের (এলএলএম) ভেতরে একটি বিশেষ অভ্যন্তরীণ কর্মক্ষেত্র বিদ্যমান। 'জে-স্পেস' নামে পরিচিত এই ক্ষেত্রটি এক ধরনের নিউরাল কার্যকলাপের সমষ্টি। মজার বিষয় হলো, এই জে-স্পেস কোনো পূর্বপরিকল্পিত নকশার ফল নয়। ক্লডকে এমন কাজ করার জন্য আলাদাভাবে প্রোগ্রামও করা হয়নি; বরং প্রশিক্ষণের সময়ই এটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছে।
গণিতের জ্যাকোবিয়ান ধারণা থেকে এই নামকরণ করা হয়েছে। প্রতিটি নিউরাল কার্যকলাপ কোনও নির্দিষ্ট শব্দ বা ধারণার সাথে সম্পর্কিত। একটি কার্যকলাপ সক্রিয় হওয়ার অর্থ হলো সেই মুহূর্তে মডেলটি ওই নির্দিষ্ট শব্দ বা ধারণা নিয়ে চিন্তা করছে। তবে জে-স্পেসকে চেইন অব থট বা ধাপে ধাপে যুক্তি উপস্থাপনের পদ্ধতির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ নীরবে কাজ করে এবং ভাষায় প্রকাশ বাধ্যতামূলক নয়।
অ্যানথ্রোপিকের দাবি, ব্যবহারকারী জানতে চাইলে ক্লড জে-স্পেস কী ভাবছে তা প্রকাশ করতে পারে। এমনকি নির্দেশ দিলে এই নিউরাল কার্যকলাপের ধরনও বদলানো সম্ভব। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জে-স্পেস ব্যবহার না করলেও ক্লড স্বাভাবিক কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারে। তবে জটিল বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা এবং উচ্চতর যুক্তিনির্ভর কাজের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। অন্যদিকে সাবলীল কথা বলা, সাধারণ তথ্য মনে রাখা বা ব্যাকরণগতভাবে সঠিক বাক্য গঠনের জন্য মডেলটি সব সময় জে-স্পেসের ওপর নির্ভর করে না।
স্নায়ুবিজ্ঞানের গ্লোবাল ওয়ার্কস্পেস তত্ত্বের সঙ্গে মিল রয়েছে এই গবেষণার। মানুষের মস্তিষ্কে একাধিক বিশেষায়িত ব্যবস্থা সমান্তরালভাবে কাজ করে এবং প্রয়োজনে তথ্য একটি অভিন্ন কর্মক্ষেত্রে একত্রিত হয়। এই ফলাফল লার্জ ল্যাংগুয়েজ মডেলের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আচরণ উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।




