বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও তথ্যসেবা খাতের প্রধান সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের পুনঃতফসিল ও আচরণবিধি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২৭ জুন নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ার পর নতুন করে এই তফসিল প্রকাশ করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান তানিয়া ইসলাম জানান, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবার সচিবালয়ে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে বোর্ডের তিন সদস্য একযোগে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে এবং একই দিন ফলাফল প্রকাশ করা হবে। কার্যনির্বাহী পরিষদের ১১টি পদের জন্য এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত নির্বাচন বোর্ড। প্রয়োজনে নির্বাচনসংক্রান্ত নিয়মকানুন ও পরিচালনাপদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে বোর্ডের কাছে। সদস্যপদ নবায়ন ও ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩ আগস্ট প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তির পর ১৪ আগস্টের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। ১৪ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। পদ ভেদে মনোনয়নপত্রের মূল্য সর্বনিম্ন ৮০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ২৬ আগস্ট প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশিত হবে। বাতিল মনোনয়নের বিরুদ্ধে আপত্তি ও আপিল নিষ্পত্তির পর বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ২ সেপ্টেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৩ সেপ্টেম্বর এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে ৫ সেপ্টেম্বর। বেসিসের নোটিশ বোর্ড, ওয়েবসাইট ও সদস্য গ্রুপে নির্বাচনসংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ করা হবে। এ প্রসঙ্গে বেসিসের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এ তৌহিদ বলেন, বেসিস শুরু হয়েছিল অনেক স্বপ্ন নিয়ে। তিনি সংগঠনটিকে সন্তানের মতো ভালোবাসেন বলে উল্লেখ করে বলেন, আজ বেসিস কেমন যেন পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনে বিজয়ী যে কেউ হোক, তারা সংগঠনের স্বপ্নগুলো নষ্ট করবেন না। অপরদিকে বেসিসের সাবেক পরিচালক ও ফ্লোরা টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফা রফিকুল ইসলাম বলেন, বেসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনে নির্বাচন ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা আইসিটি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে। বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বেসিসের অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একাধিক সদস্য অভিযোগ করেছেন, কোনো একটি শক্তি বারবার বেসিসকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে সংগঠনকে পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ সদস্যই সুষ্ঠু নির্বাচন কামনা করছেন।