যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ইয়াঙ্কিজ বেসবল দলের সভাপতি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী একটি বিতর্কিত মন্তব্যে এনএএসিপি এবং কংগ্রেসের ব্ল্যাক ককাসের সমালোচনা করেছেন। কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার রক্ষার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত একটি বয়কটের প্রেক্ষাপটে তিনি এই সংগঠনগুলোর অবস্থানকে ‘অন্যায্য’ বলে চিহ্নিত করেন।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঘোষণায় কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে এনএএসিপি এবং কংগ্রেসনাল ব্ল্যাক ককাস (সিবিসি) ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা বলেছে, ওই ব্যক্তির পূর্ববর্তী বক্তব্য ও নীতিগত অবস্থান কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার সংকুচিত করার পক্ষে। ফলে তারা ওই নিয়োগের প্রতিবাদে এবং ভোটাধিকার সুরক্ষার দাবিতে ইয়াঙ্কিজের খেলাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রম বয়কটের প্রস্তাব দেয়।
তবে ইয়াঙ্কিজ প্রধান এই বয়কটের যুক্তি খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এনএএসিপি ও সিবিসি যে নিয়োগটিকে কেন্দ্র করে আপত্তি তুলেছে, সেটি আসলে কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের জন্য অগ্রগতির একটি সুযোগ। তার মতে, এই সংগঠনগুলোর বর্তমান অবস্থান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা ঐক্যের পরিবর্তে বিভেদ সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার রক্ষার যে দাবি তারা তুলছে, তা অবশ্যই সম্মানজনক, কিন্তু একটি যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে তারা যে কৌশল অবলম্বন করেছে, তা ন্যায়সঙ্গত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসন এবং কৃষ্ণাঙ্গ নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের আরেকটি ইঙ্গিত। ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে ইয়াঙ্কিজ প্রধানের এই মন্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, এনএএসিপি ও সিবিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়াঙ্কিজ প্রধানের বক্তব্যের জবাব না দিলেও, তাদের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ভোটাধিকার ইস্যুতে তারা পিছু হটবে না।
এদিকে, এই বয়কট প্রস্তাবের ফলে নিউইয়র্কের ক্রীড়াঙ্গনে বিভক্তির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। অনেক ভক্ত ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। কেউ কেউ এনএএসিপির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন, আবার অনেকে ইয়াঙ্কিজ প্রধানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন ম্যাচগুলোতে বিক্ষোভ বা প্রতিবাদী কর্মসূচি হতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইয়াঙ্কিজ প্রধানের এই মন্তব্য যে প্রশাসনের পক্ষে একটি বড় সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন।




