বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ মার্ক কুকুরেয়া। তবে মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও তাঁর জীবনে আরেকটি সংগ্রাম আছে, যার কেন্দ্রে আছে তাঁর বড় ছেলে মাতেও। ছয় বছর বয়সী মাতেও অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে (এএসডি) আক্রান্ত। এই অভিজ্ঞতা কুকুরেয়ার জীবনদৃষ্টি ও অগ্রাধিকার পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
বিশ্বকাপজুড়ে কুকুরেয়া দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেও মাতেওকে খুব একটা স্টেডিয়ামে আনা হয়নি। কারণ গ্যালারির উচ্চ শব্দ, ভিড় ও আলো অটিজমে আক্রান্ত শিশুর জন্য অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। কুকুরেয়া জানিয়েছেন, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নির্দিষ্ট বক্সে বসলে মাতেও কিছুটা স্বস্তি পায়, কিন্তু সাধারণ গ্যালারির পরিবেশ তার জন্য কঠিন। তাই ফাইনাল ম্যাচেই কেবল তাকে আনার পরিকল্পনা ছিল, যা এবার বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। ফাইনালে স্পেনের হয়ে ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ে গ্যালারি থেকে বাবাকে সমর্থন করবে ছোট্ট মাতেও।
মাতেও খুব ছোট থাকতেই তার আচরণে ভিন্নতা লক্ষ্য করেন বাবা-মা। কথা বলতে দেরি, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে অসুবিধা, চোখে চোখ রেখে যোগাযোগ না করা—এসব লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথমে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হতে পারেননি, পরে পরীক্ষায় অটিজম ধরা পড়ে। কুকুরেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সবচেয়ে কঠিন ছিল তাঁরা বুঝতেই পারছিলেন না কীভাবে ছেলেকে সাহায্য করবেন।
কেউ বাবা-মা হওয়া শেখায় না—এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই নিজেরা শিখেছেন কুকুরেয়া ও তাঁর সঙ্গী ক্লদিয়া রদ্রিগেজ। মাতেও সাধারণ স্কুলে মানিয়ে নিতে পারেনি, পরে বিশেষায়িত স্কুল ও থেরাপিস্টদের সহায়তায় ধীরে ধীরে উন্নতি হতে থাকে। একই সময়ে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর কুকুরেয়ার ক্যারিয়ারেও চাপ ছিল, কিন্তু পরিবারে স্বস্তি ফিরলে মাঠেও আত্মবিশ্বাস ফিরে পান তিনি।
বর্তমানে কোনো নতুন ক্লাবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কুকুরেয়া প্রথমেই খোঁজ নেন সেখানে অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিশেষায়িত স্কুল, থেরাপি ও সহায়তা ব্যবস্থা আছে কি না। প্রাইম ভিডিওর তথ্যচিত্র ‘মেরিড টু দ্য গেম’-এ ছেলের অটিজম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হন তিনি। তাঁর মতে, অনেকেই ফুটবলারদের জীবন নিখুঁত মনে করেন, কিন্তু তাঁরাও সাধারণ মানুষের মতো সমস্যা ও সংগ্রামের মুখোমুখি হন। তিনি প্রকাশ্যে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন যাতে অন্য পরিবারগুলো প্রাথমিক লক্ষণ বুঝতে পারে ও সময়মতো সাহায্য নিতে পারে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে কুকুরেয়া ট্রফি জিততে পারেন বা নাও পারেন, কিন্তু তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় জয় এখন মাতেওর ছোট্ট ছোট্ট অগ্রগতি। তিনি বলেন, সবকিছুই বেশি কঠিন, কিন্তু ছেলে যখন সামান্য উন্নতি করে, সেই আনন্দের তুলনা হয় না।




