ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশি লাইসেন্সিং ব্যবসা ব্যাপক উল্লম্ফন দেখেছে, যার মোট আয় এখন ৫৯.৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই বিপুল অঙ্কের আয়ের একটি বড় অংশ — প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ — এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুইটি উন্নয়ন সংস্থা থেকে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারে অবস্থিত এই দুই প্রতিষ্ঠান ট্রাম্পের ব্র্যান্ড নাম ব্যবহারের জন্য বিপুল পরিমাণ লাইসেন্সিং ফি পরিশোধ করেছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে, যা ট্রাম্পের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই আয়ের উৎস নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের ব্যবসায়িক লেনদেন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক স্বচ্ছতার অভাবে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে, যখন তিনি আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন এই ধরনের আর্থিক লেনদেন নৈতিক দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প সংস্থার পক্ষ থেকে এই আয়কে বৈধ ব্যবসায়িক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, লাইসেন্সিং মডেলটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি বিশ্বজুড়ে ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তার প্রতিফলন। গালফ অঞ্চলের উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্ব বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক এবং দুই পক্ষই এই সম্পর্ক থেকে উপকৃত হচ্ছে।
এই আয়ের পরিমাণ এবং এর উৎস নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এই তথ্যকে তার বিরুদ্ধে প্রচারণার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে, বিদেশি অর্থের ওপর নির্ভরতা এবং তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে কি না — এই প্রশ্নটি সামনের দিনগুলোতে আরও জোরালো হয়ে উঠতে পারে।
তবে এ পর্যন্ত ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই আয়ের বৈধতা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা চ্যালেঞ্জের জবাব দেওয়া হয়নি।




