বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। দুই দলের ফাইনালে ওঠার পথ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর্জেন্টিনার যাত্রা ছিল নাটকীয়—গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষকে সহজেই হারালেও নকআউট পর্বে একের পর এক ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় তারা। অন্যদিকে স্পেনের শুরুটা ভালো না হলেও পরে তারা প্রতিটি ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছেছে, পুরো আসরে তাদের বিপক্ষে গোল এসেছে মাত্র একটি।

স্পেনের অভিযান শুরু হয়েছিল কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। সেই ম্যাচে একটি গোল করেন লামিনে ইয়ামাল। এরপর উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারায় স্পেন, একমাত্র গোলটি করেন বায়েনা। শেষ ৩২-এ অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হয়ে স্পেন ৩-০ ব্যবধানে জেতে, যেখানে ওইয়ারসাবাল দুটি গোল করেন এবং একটি করেন পেদ্রো পোরো। শেষ ষোলোতে রোনালদোর পর্তুগালকে ১-০ গোলে বিদায় করে স্পেন, গোলটি করেন মিকেল মেরিনো। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারানোর নায়ক ছিলেন রুইজ ও মেরিনো—প্রত্যেকে একটি করে গোল করেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে স্পেনের হয়ে গোল করেন ওইয়ারসাবাল ও পেদ্রো পোরো। দলকে ফাইনালে তোলার আনন্দ উদযাপন করেন রদ্রি।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলে জেতে। দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসির জোড়া গোলে জয় ২-০। গ্রুপের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা, বদলি নেমে একটি গোল করেন মেসি। শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয় পায় তারা। মেসির পাশাপাশি লিসান্দ্রো মার্তিনেজ গোল করেন এবং একটি গোল আসে আত্মঘাতী। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে মাত্র ১৩ মিনিটে তিন গোল করে দারুণ জয় পায় আর্জেন্টিনা। একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতার পর অতিরিক্ত সময়ে দলকে এগিয়ে দেন আলভারেজ, পরে গোল করেন লাওতারো মার্তিনেজ। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। মেসির ক্রস থেকে হেডে গোল করেন মার্তিনেজ, অন্য গোলটি এনজো ফার্নান্দেজের।

সবমিলিয়ে, ফাইনালে দেখা যাবে অলৌকিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো আর্জেন্টিনা আর সম্মোহনী পারফরম্যান্সে এগিয়ে যাওয়া স্পেনের লড়াই।