ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রুটটির যাত্রী পরিবহন শুরু হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে এই পথে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। তার আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে রাতের সময় নিয়মিত রুট বন্ধ থাকায় ট্রায়াল রানের জন্য তুলনামূলক বেশি সময় প্রয়োজন হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে ডিএমটিসিএল সূত্র জানিয়েছে, মতিঝিল-কমলাপুর অংশের ভৌত অবকাঠামো—উড়ালপথ ও স্টেশন নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে স্টেশন ভবনের অভ্যন্তরীণ নানা কাজ যেমন টাইলস বসানো, গ্রানাইট স্থাপন ও রংয়ের কাজ চলছে। রেললাইন বসানো ও বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শুরু হয়েছে সম্প্রতি। বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলেছে। এই অংশের ভৌত নির্মাণ ঠিকাদার হিসেবে থাইল্যান্ডের ইতাল-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি ৫১১ কোটি টাকায় কাজ করছে। তাদের সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের ম্যাকডোনাল্ড স্টিল কাজ করছে।

ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগে দেরি হয়েছিল। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এ কাজের জন্য প্রস্তাবিত দর ছিল ৬৫১ কোটি টাকা। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে দর-কষাকষি করে তা কমিয়ে ৪৬৫ কোটি টাকা করে। গত বছর ভারতীয় প্রতিষ্ঠান লারসন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) এই কাজের জন্য নিয়োগ পায়। এই প্যাকেজের আওতায় রেললাইন, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, সংকেত ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় টিকিটিং ব্যবস্থা ও প্ল্যাটফর্মের স্বয়ংক্রিয় দরজা বসানোর কাজ সম্পন্ন হবে।

ডিএমটিসিএলের সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাস পর্যন্ত মতিঝিল-কমলাপুর অংশের সামগ্রিক কাজের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এখনো বাকি কাজের মধ্যে রয়েছে সংকেত ব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়ের যন্ত্রপাতি বসানো। এই যন্ত্রপাতি জাপানের নিপ্পন সিগন্যাল কোম্পানি থেকে আসার কথা। অর্ডার দেওয়া হলেও বিভিন্ন দেশে একই ধরনের চাহিদা থাকায় বাংলাদেশের চালান এখনো পৌঁছায়নি। প্রয়োজন পড়লে অন্যান্য স্টেশনের সরঞ্জাম ব্যবহার করে পরীক্ষামূলক চলাচল সম্পন্ন করার বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে।

উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্পূর্ণ লাইনের নাম এমআরটি লাইন-৬। বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দৈনিক চার লাখের বেশি যাত্রী মেট্রোরেলে চলাচল করছেন। কমলাপুর অংশ চালু হলে এই সংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজারে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে উত্তরা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত আরও সাড়ে সাত কিলোমিটার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে ছয়টি মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪০ কিলোমিটার। বর্তমান সরকার মেট্রোরেলের সঙ্গে মনোরেলের সংযোগ স্থাপনেরও পরিকল্পনা করছে। ২০১২ সালে প্রকল্প অনুমোদনের সময় ব্যয় ছিল প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা এ প্রকল্পে প্রায় ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।