ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় গ্রামবাসী। শনিবার ভোর চারটার দিকে জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তের ২৭৫/৮-এস উপসীমানা পিলার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বিএসএফ সদস্যরা দুই নারী ও এক বৃদ্ধসহ তিন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়। তবে এ সময় সীমান্তে পাহারায় থাকা এলাকাবাসী বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তাদের বাধা দেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিতে খবর পাঠায়। বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নিলে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। বর্তমানে ওই তিন ব্যক্তি সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিজিবির ভুটিয়াপাড়া বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার শামছুজ্জামান জানান, পুশ ইন প্রচেষ্টা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং এ ব্যাপারে বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে উভয় বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ঘটনার সময় বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের একটি লাইটপোস্টের আলো নিভিয়ে দিয়ে তৎপরতা চালায় বলে জানান ধলাহার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভোরের অন্ধকারে বিএসএফ সদস্যরা এক বৃদ্ধ ও দুই নারীকে সীমান্তের কাটাতারের বেড়া অতিক্রম করিয়ে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু গ্রামবাসীদের দৃষ্টি এড়াতে আলো নিভিয়ে দেয়া হলেও স্থানীয়দের সতর্ক চোখ ফাঁকি দেয়া সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে বিজিবি পৌঁছলে বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করে।
পুশ ইন চেষ্টার শিকার হওয়া তিনজনের মধ্যে কেবল এক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম হাফিজুর রহমান (৬৫)। তার সঙ্গের দুই নারীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে বিজিবি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের বিভিন্ন সময়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে আটক করে রাখা হয়েছিল।
জয়পুরহাট সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও কয়েকবার পুশ ইন চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিএসএফের বিরুদ্ধে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে ইতিমধ্যে বিজিবি কড়া নজরদারি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত বিজিবির নজরে আনা যায়। এখন দেখা হচ্ছে এই ঘটনা দুই বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন করে কোনো প্রভাব ফেলে কিনা।




