সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জেলা প্রশাসনের তরফে সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ এবং সম্প্রতি স্থাপন করা নতুন দানবাক্স খুলে টাকা গণনার কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল সোয়া ১১টার পর থেকে মাজার প্রাঙ্গণে এ কাজ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সদস্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গণনা শেষে দানের টাকার পূর্ণ হিসাব প্রকাশ করা হবে।

এর আগে গত ২২ জুন আটটি ডেগ ও দানবাক্স খুলে মোট ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা নগদ পাওয়া যায়। এ ছাড়া উদ্ধার হয় ৭ আনা স্বর্ণালংকার এবং সৌদি ৫ রিয়ালের দুটি নোট। এসব দান ছিল মাত্র চার দিনের। পরবর্তীকালে জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চালু করা একটি ব্যাংক হিসাবে ওই অর্থ জমা রাখা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। ওই সময় মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এর অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকেলে পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স বসানো হয়। একইসঙ্গে মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহাসিক ডেগও সিলগালা করা হয়।

এই ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। কেউ কেউ সারওয়ার আলমের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন, আবার অনেকে প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমন বিতর্কের মধ্যে সরকার তাঁকে প্রত্যাহার করে নেয়। তবে একাধিক মন্ত্রী এই বদলিকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ হিসেবে আখ্যা দেন।

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। আজ সেই কমিটির উদ্যোগেই প্রথমবারের মতো মাজারের দানের টাকা গণনার কাজ শুরু হলো। দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ ভক্ত-অনুরাগীরা প্রতিদিনই মাজার জিয়ারতে আসেন এবং টাকাসহ নানা সম্পদ দান করেন। এখন দেখা হবে, নতুন ব্যবস্থাপনায় কী পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ হয়।