পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হকের মৃত্যুর চার দশক পূর্ণ হতে চলেছে, কিন্তু তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে থাকা ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি। ১৯৮৮ সালের ১৭ আগস্ট বাহওয়ালপুরে একটি বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। ওই ঘটনায় মোট ৩১ জন আরোহী নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে জিয়াউল হকও ছিলেন। মার্কিন তৈরি এম-১ আব্রামস ট্যাংকের একটি প্রদর্শনী শেষে ফিরছিলেন তারা। সেই সময়ই সি-১৩০ উড়োজাহাজটি আকাশে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর থেকেই একটি প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে — এটি কি সত্যিই একটি দুর্ঘটনা ছিল, নাকি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অংশ? এত বছর পরেও এই প্রশ্নের কোনো নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্তে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
জিয়াউল হকের জন্য বাহওয়ালপুরে উপহার হিসেবে আনা কিছু আমের বাক্সও ছিল। এই বাক্সগুলো নিয়েও ব্যাপক সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। অনেকের মতে, ওই বাক্সগুলোর ভেতরে আম ছাড়াও বিস্ফোরক বা অন্য কিছু লুকানো থাকতে পারে, যা বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই তত্ত্বের পক্ষে কোনো কঠোর প্রমাণ আদালতে বা তদন্তে উপস্থাপন করা যায়নি।
প্রদর্শনী শেষে ফেরার পথে বাহওয়ালপুর থেকে বিমানটি যখন উড্ডয়ন করে, তখন সবকিছু স্বাভাবিক ছিল বলে জানা যায়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ ও সব আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই দুর্ঘটনায় পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা ছাড়াও মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাও ছিলেন। এ কারণে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে বিমানটির কেবিনে গন্ধ বা ধোঁয়া দেখা গিয়েছিল বলেও কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আমের বাক্সগুলো সেই তত্ত্বকেই আরও জোরদার করে।
তবে চার দশক পরেও এই রহস্যের সমাধান না হওয়ায় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আরও জোরালো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, জিয়াউল হকের মৃত্যু তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের জন্য সুবিধাজনক ছিল। কিন্তু কোনো পক্ষকেই সরাসরি দায়ী করা যায়নি।
মৃত্যুর এত বছর পরেও জিয়াউল হকের মৃত্যু পাকিস্তানের রাজনীতিতে এক অমীমাংসিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে। তাঁর পরিবার ও সমর্থকরা বারবার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানালেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আমের বাক্সের রহস্যও তাই আজও অজানা থেকে গেছে।




