সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি তাদের প্রথম বৈঠকে জানিয়েছে, জুলাই সনদের পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারকেও তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পুরো সংবিধান পর্যালোচনা করে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, পেশাজীবী ও বিভিন্ন অংশীজনের মতামত সংগ্রহ করা হবে। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি সর্বজনগ্রাহ্য সংশোধনী প্রস্তাব আনার চেষ্টা চলছে।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠকে মূলত কাজের কৌশল নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তারা সবার কথা শুনবেন এবং যেখানেই সংশোধনের প্রয়োজন, সেখানেই পরিবর্তন আনবেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সংশোধনী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
জুলাই সনদের ৪৭টি প্রস্তাবের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, তারা একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে সনদটি মেনে নিয়েছেন। তবে যেসব বিষয়ে তাদের ভিন্নমত ছিল, সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদকে বৃত্তায়ন করে এবং জুলাই চেতনাকে ধারণ করেই তারা সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাবেন। তিনি স্পষ্ট করেন, নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া হবে না। সংবিধানের একটার সঙ্গে আরেকটার গাঁথুনি রাখতে পুরো সংবিধানই পর্যালোচনার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলের আপত্তির বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে বিএনপি দ্বিমত পোষণ করেছে, সেগুলো যদি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে সেটাই প্রাধান্য পাবে। তিনি জুলাই সনদকে ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক নির্দেশিকার কোড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, বিরোধী দল যদি মনে করে যে তারা সনদের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন, তাহলে তাদের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে এবং যৌক্তিক সমালোচনা তারা গ্রহণ করার চেষ্টা করবেন।
বৈঠকে উপস্থিত কমিটির সদস্য ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তারা আগামী এক-দুই বছরের জন্য নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য সংবিধান সংশোধন করতে চান, যাতে তারা এর সুফল পেতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দলও সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসবে। সংশোধন ও সংস্কারের মধ্যে মূলত কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠকে সদস্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, আন্দালিভ রহমান, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা ও মো. মাহমুদুল হক। তবে ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।
বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও গত ১৩ জুলাই এই বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তারা কমিটি প্রত্যাখ্যান করে কারও নাম দেয়নি। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।


