সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর জেরে সিঙ্গাপুরে এক ফরাসি শিক্ষার্থীকে ৬০০ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৪৬৫ মার্কিন ডলার বা ৩৪৮ পাউন্ড) জরিমানা করেছে দেশটির একটি আদালত। অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী কমলার রসের একটি ভেন্ডিং মেশিন থেকে একটি স্ট্রো চেটে তা আবার ডিজেনসারের মধ্যে রেখে দেন।
১৯ বছর বয়সী দিদিয়ের গাসপার্ড ওয়েন ম্যাক্সিমিলিয়ান সিঙ্গাপুরে পড়াশোনা করেন। আদালতে তিনি জনসাধারণের জন্য উপদ্রব সৃষ্টির এক অভিযোগে দোষ স্বীকার করে নেন। ম্যাক্সিমিলিয়ান তার এই কীর্তির একটি ভিডিও ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ক্যাপশন দিয়েছিলেন "সিটি ইজ নট সেইফ" (শহরটি নিরাপদ নয়)। ভিডিওটি পরবর্তী সময়ে একটি কমিউনিটি পেজে পুনরায় পোস্ট করা হলে এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বহু দর্শক বিরক্তি প্রকাশ করে।
যেই ভেন্ডিং মেশিনের স্ট্রো তিনি চেটেছিলেন, সেটির মালিক কোম্পানি আইজুজ জানায়, ম্যাক্সিমিলিয়েনের এ কাজের পর তারা ওই মেশিনের ডিজেনশারের সমস্ত ৫০০টি স্ট্রো সরিয়ে ফেলে এবং নতুনগুলো দিয়ে প্রতিস্থাপন করে।
সিঙ্গাপুরে জনসাধারণের জন্য উপদ্র সৃষ্টিকারী অপরাধীদের জন্য সর্বোচ্চ ২,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা, তিন মাসের জেল, বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ম্যাক্সিমিলিয়েনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ ও আইনজীবী উভয়েই জরিমানার আবেদন করে।
তবে এই ঘটনায় যে কেবল তার নিজেরই ক্ষতি হয়েছে তা নয়। দ্য স্ট্রেটস টাইমস-এর বরাত দিয়ে তার আইনজীবী বলেন, ম্যাক্সিমিলিয়েন “এই সমস্ত ঝামেলা তৈরি করার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং সে উপলব্ধি করেছে যে, যা তার কাছে তখনকার সময়ে একটি মজার কাণ্ড বলে মনে হয়েছিল, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি ডেকে এনেছে।”
প্রসঙ্গত, সিঙ্গাপুরের বিপণিবিতান, ট্রেন স্টেশন ও আবাসিক ভবনগুলোর মতো জায়গায় আইজুস ভেন্ডিং মেশিন খুবই পরিচিত একটি দৃশ্য। প্রতি কাপ ২ সিঙ্গাপুর ডলারে এসব মেশিন টাটকা কমলার রস পরিবেশন করে। চ্যানেল নিউজ এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাক্সিমিলিয়েন গত ১২ মার্চ সিঙ্গাপুরের অভিজাত এক এলাকার গোল্ডহিল সেন্টারে বক্সিং অনুশীলনের পর এই কাণ্ডটি ঘটান।




