মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় দামিয়েত্তা বন্দরে বুধবার একটি মার্কিন মালিকানাধীন ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণাগারে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আমব্রে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বিস্তৃত করার একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, ড্রোনটি ‘এনারগোস উইন্টার’ নামের একটি ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ও পুনর্গঠন ইউনিটে আঘাত করে। এই আঘাতের সূত্র ধরে সৃষ্ট আগুন দ্রুত পাশে নোঙর করা ‘গ্যাসলগ সালেম’ নামের অপর একটি জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। দুটি পৃথক নিরাপত্তা সূত্র প্রাথমিক তদন্তের বরাতে নিশ্চিত করেছে যে, বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ড্রোন হামলার বিষয়টিকেই দায়ী করা হচ্ছে। যদিও মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বন্দরের এই অগ্নিকাণ্ডের কথা স্বীকার করা হলেও, তার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ কোনো ড্রোন হামলার কথাও জানায়নি।
সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানায়, ‘এনারাগোস উইন্টার’-এর ডান পাশে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বন্দর সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইনচকেপও নিশ্চিত করেছে যে, দামিয়েতু বন্দরে দুটি গ্যাস ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। স্যাটেলাইট চিত্র ও জাহাজের ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা ঘটনার স্থান ও জাহাজ দুটি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। জাহাজের মাস্তুল, পেছনের অংশ ও অন্যান্য কাঠামোগত মিল দেখে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোকে ‘এনারগোস উইন্টার’ ও ‘গ্যাসলগ সালেম’ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
‘এনারগোস উইন্টার’ জাহাজটির মালিকানা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এনারগোস ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এর কাছে। এর ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৫০ ঘনমিটার। জাহাজটির ব্যবসায়িক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তত্ত্বাবধান করে আরেকটি মার্কিন কোম্পানি ‘উইলহেলমসেন শিপ ম্যানেজমেন্ট’।
মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস ও নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী করিম বাদাউই ব্যক্তিগতভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উদ্ধার কাজ তদারকি করেন। বিবৃতিতে এও নিশ্চিত করা হয় যে, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও পরবর্তী কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জরুরি ও প্রযুক্তিগত দল কাজ করছে।
তবে এই হামলার পেছনে কে বা কারা দায়ী, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি। উল্লেখ্য, এই ঘটনাটি জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানেরা আগ্রাসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অব্যবহিত পরেই ঘটল। এর আগে, ইরাকে অবস্থিত ইরান-সমর্থিত আধাসামরিক বাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব সম্মিলিত বিমান হামলা পরিচালনা করে। ক্রমবর্ধমা উত্তেজনার এ সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা শুরুর প্রেক্ষাপটে সর্বশেষ এ ঘটনা চলমান সংঘাতকে আরও ভয়াবহতর ও বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার গভীর আশঙ্কা সৃষ্টি করল।




