বিশ্বকাপ ফুটবলের উৎসবকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বেড়ে চলেছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে নকল ছবি, অ্যাভাটার, মিম এবং ম্যাচের পূর্বাভাস তৈরি করা হচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অজানা বা অননুমোদিত এআই সেবা ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও অনলাইন নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অনেক এআই প্ল্যাটফর্ম ছবি, সেলফি, ই-মেইল ঠিকানা এবং সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টের মতো ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে থাকে। কীভাবে এই তথ্য সংরক্ষণ বা ব্যবহার করা হবে তা না জেনে শেয়ার করলে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কা থাকে। তাই অনলাইনে সুরক্ষিত থাকতে হলে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ভরযোগ্য এআই প্ল্যাটফর্মেই প্রদান করা উচিত। সেইসঙ্গে এআই টুলগুলোর গোপনীয়তা নীতিমালা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। মূল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে এআই টুল যুক্ত না করার পরামর্শ দিয়েছে ক্যাসপারস্কি।
ক্যাসপারস্কির ওয়েব কনটেন্ট অ্যানালাইসিস ও প্রাইভেসি বিশেষজ্ঞ আন্না লারকিনা বলেন, এআই দিয়ে তৈরি ফ্যান কনটেন্ট প্রথম দেখায় ক্ষতিকর মনে না হলেও, অনেক সময় এটি ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ব্যক্তিগত তথ্য দিতে উৎসাহিত করে। একটি সাধারণ অ্যাভাটার বানানোর জন্যও ছবি, যোগাযোগের তথ্য, অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং ব্যবহার সংক্রান্ত নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টের সময় প্রতারকরা বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই কোনো এআই সেবা ব্যবহারের আগে সেটি ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার করে তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে এআইভিত্তিক প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা, এআই-সমৃদ্ধ অ্যান্টি-ফিশিং সুবিধাসম্পন্ন নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ক্যাসপারস্কি। এছাড়া ভ্রমণের সময় পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ের পরিবর্তে ই-সিম বা বিশ্বস্ত ভিপিএন ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।




