জাতীয়তাবাদী যুবদলের শীর্ষ নেতা আবদুল মোনায়েম মুন্না বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, সংগঠনের আদর্শের বিপরীতে কাজ করার কারণে ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় তিন শতাধিক নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংগঠনের সুনাম ও মূলনীতি রক্ষায় অনেকের বিরুদ্ধে থানায় ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি, আরও গভীর তদন্তের পর কিছু ব্যক্তির ওপর থেকে সাংগঠনিক শাস্তি প্রত্যাহারও করা হয়েছে।

‘সমসাময়িক রাজনীতি ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, যুবদল স্পষ্ট করে দিতে চায় যে, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অবৈধ কার্যকলাপ চালানোর সুযোগ পাবে না। ভবিষ্যতে যাতে কেউ সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে। আলোচিত কিছু ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রেজাউল কবির পল, এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মুন্না বলেন, যে কেউ অপরাধ করলে তার শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। সাংগঠনিক শাস্তির ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুটি স্তর রয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের কোনো নেতা-কর্মী অভিযুক্ত হলে জেলা কমিটি তাকে শাস্তির আওতায় আনে। আর উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের কেউ অপরাধে জড়িত পড়লে কেন্দ্র থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এমনকি নিজস্ব তদন্তের বাইরে গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতাও নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, সংগঠনের পদবি ব্যবহার করে কারও সঙ্গে অন্যায় করার লাইসেন্স দেওয়া হয় না। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গ্রেপ্তার যুবদল নেতা শামীম মিয়াকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তারের পর সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অপরাধের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এটি ছিল সংগঠনের নৈতিক দায়িত্ব। এর আগেও অপরাধের দায়ে শামীমকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

অভিযুক্ত অনেকেই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে বর্তমানে জড়িত নন বলে দাবি করেন মুন্না। উদাহরণ হিসেবে তিনি কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুল ইসলামের কাছে যুবদল পরিচয়ে চাঁদাবাজির ঘটনা উল্লেখ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভুক্তভোগীকে সহযোগিতা করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে যুবদলের সঙ্গে জড়িত নন, তিনি আগে যুবদল করতেন। ওই অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এখন তিনি কারাগারে রয়েছেন।

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পাওয়া নেতাদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে যুবদল সভাপতি বলেন, আগের কমিটিতে ২৫১ সদস্য ছিলেন, এবার ১৫১ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ১০০ জন বাদ পড়েছেন। এত বড় সংগঠনের লাখ লাখ নেতা-কর্মীর মধ্যে এমনটা হয়। যারা পদ পেয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও কারাভোগের ইতিহাস বিবেচনা করেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

হত্যা মামলার আসামিও নতুন কমিটিতে পদ পেয়েছেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, এটা তাদের জানা নেই। কোনো নেতার বিরুদ্ধে মামলা থাকলেই তিনি অপরাধী হয়ে যান না। কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও থাকতে পারে। দেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার নজির রয়েছে। আওয়ামী ফ্যাসিস্টের আমলে তাদের বিরুদ্ধে বহু মিথ্যা মামলা হয়েছে।

যুবদলের সভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, কোনো সভায় তারা যখন কথা বলেন, তাদের মধ্যে মতানৈক্য হয়, কিন্তু সেটি শালীনতার মধ্যে থাকে। কেউ কখনো মাত্রা অতিক্রম করেন না। এ ধরনের তথ্য সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।