জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের এক শীর্ষ নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করেছে। উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার সন্দেহে সম্প্রতি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার হন ওই নেতা। তার নাম আতাউল্লাহ শাহ, তিনি এনসিপির গাজীপুর মহানগর শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আতাউল্লাহ শাহর বিরুদ্ধে দলের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী তাকে গাজীপুর মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব পদসহ সব সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো। এই নির্দেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

এর আগে গত ৫ জুলাই ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠ থেকে আতাউল্লাহ শাহসহ ছয় যুবককে আটক করে পুলিশ। পুলিশের বরাতে জানা যায়, গোপন সূত্রে তথ্য পাওয়া যায় যে ওই স্থানে কয়েকজন ব্যক্তি উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সেই খবরের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কেউ কেউ পালানোর চেষ্টা করলে এই ছয়জনকে আটক করা হয়। একইদিন যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক এ বি সিদ্দিকের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের আদালতে তোলা হয় এবং ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তিনি। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে বিচারিক আদালত আতাউল্লাহসহ সবাইকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যে রয়েছেন শাহ আমানত সাবির, হোসাইন তানিম, জুনায়েদ, আবিদুর রহমান ও বায়োজিত। পুলিশের দাবি, এরা সবাই উগ্রবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নীতি-আদর্শের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থেকে এই কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলটির বিশ্বাস, এর ফলে সদস্যদের মধ্যে সুশাসন ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আরও দৃঢ় হবে।