আর্থিক খাতকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে পুরো দেশকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রাজধানীতে ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো সেবা সহজ করা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। সম্প্রতি প্রণীত বাজেটে দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষ—সাধারণ কারিগর, শিল্পী ও গায়কদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রযাত্রাকে সফল করতে প্রযুক্তির বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি জানান, নাগরিকদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সরকার ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সেরা চর্চা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী জানান, তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ এস্তোনিয়ার মডেল যাচাইয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি দল সেখানে অবস্থান করছে। উল্লেখ্য, দেশটির আর্থিক লেনদেনের প্রায় ৯৯ শতাংশ ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, এক মুহূর্ত সময় অপচয় না করে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম পদ্ধতি দেশের আর্থিক খাতে কাজে লাগানো হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, প্রদর্শিত উদ্ভাবনগুলো প্রশংসনীয় হলেও চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে আরও ধারাবাহিক উন্নতি প্রয়োজন। ব্যাংক ও বিমার মোট গ্রাহকের কত শতাংশ ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন, তা যাচাই করে দেখার তাগিদ দেন তিনি। গ্রাহকদের পুরোনো অভ্যাস পরিবর্তন করে অনলাইন সেবায় অভ্যস্ত করতে প্রতিটি শাখার কর্মকর্তাদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আকর্ষণীয় চিঠির মাধ্যমে ডিজিটাল সেবার সুবিধা সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করতে হবে। ব্যাংক, বিমা, পুঁজিবাজারসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, জনগণ যেন ঘরে বসে, রিকশায় বা গাড়িতে বসে অনায়াসে সেবা নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এতে মানুষের সময়, যাতায়াত খরচ ও হয়রানি কমবে এবং দেশের প্রকৃত উৎপাদনশীলতা বাড়বে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।