সীমিত ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের সংসারে চাপ অব্যাহত রেখেছে মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে টানা তিন মাস ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে বিরাজ করছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকেই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। মে মাসের শেষ দিকে বিদ্যুতের দামও বৃদ্ধি পায়। এই খরচ বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন থেকে শুরু করে পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত নানা পর্যায়ে ব্যয় বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। বাজারে শাকসবজি, মাছ-মাংস ও চালের দাম চড়া রয়েছে।
জুন মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার মূল্যস্ফীতি আরও বেশি, যা ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
এদিকে, জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার হয়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম। ফলে প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। আয় না বাড়ায় অনেক পরিবার ধারদেনা করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছে অথবা খাবার, পোশাক, যাতায়াতসহ নানা খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।




