বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তেজনা শুধু মাঠেই নয়, দর্শকদের ঘরেও তৈরি করে নানা আবহ। তেমনি এক ঘটনা ঘটেছে এক দম্পতির সংসারে, যেখানে আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ দেখতে বসে শ্বশুর-জামাইয়ের মধ্যে বাক্যুদ্ধ বাধে।
ম্যাচ শুরুর আগেই শ্বশুর বাড়িতে আসেন এবং একসঙ্গে খেলা দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। জামাই আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও শ্বশুর ছিলেন ব্রাজিলের পক্ষে। খেলার শুরুতে মিসর গোল করলে শ্বশুর মেসিকে ‘ফালতু প্লেয়ার’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘মেসি কোনো পিলিয়ার হইল! যা গোল করে সব পেনাল্টিতেই করে, তা-ও আবার মিস!’ জামাই চুপ থাকলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
এর মধ্যে শ্বশুর রোনালদোকে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘সারা জীবন শুনছি রোনালদু ব্রাজিলে খেলে, এখন পর্তুগালে খেলার মানে কী? বেইমানি না?’ জামাই তাকে বোঝান যে এটি অন্য রোনালদো।
হাফটাইমের বিরতিতে জামাই ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ‘সত্তর মিনিটের মধ্যে গোল না দিলে আজ আমরা বাদ।’ শ্বশুর জবাবে বলেন, ‘সত্তর মিনিটের মধ্যে আরও গোল খাবে। তুমি টেনশনে খেলায় মন দিতে পারো না।’
দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার হয়ে রোমেরো ও মেসি গোল করলে জামাই ও তার স্ত্রী তামান্না উচ্ছ্বাসে লাফিয়ে ওঠেন। এতে শ্বশুর রেগে গিয়ে মেয়েকে প্রশ্ন করেন, ‘তুই না রোনালদুর ফ্যান ছিলি? ব্রাজিল করতি?’ তামান্না জানান তিনি আগে থেকেই আর্জেন্টিনা সমর্থক। শ্বশুর তাকে মিথ্যাবাদী বলে চিৎকার করে বলেন, ‘মিথ্যা বললে তোর নামে মামলা করে বাড়ি যাব।’ তিনি জামাইয়ের বিরুদ্ধে মানসিক চাপ দিয়ে স্ত্রীকে দল পরিবর্তনে বাধ্য করার অভিযোগ আনেন।
একপর্যায়ে তামান্না ক্ষিপ্ত হয়ে রুমে চলে যান এবং শর্ত দেন, ‘আব্বা থাকতে আর কখনো খেলার নামও নিও না, নইলে বাপের বাড়ি চলে যাব।’ জামাই নিরুপায় হয়ে সব মেনে নেন। শেষে পাশের বাড়ি থেকে গোলের চিৎকার শোনা যায়, কিন্তু দম্পতি আর খেলা দেখা চালিয়ে যাননি।



