মহাকাশ গবেষক ও কৌতূহলী মানুষের কাছে মঙ্গল গ্রহ সবসময়ই এক অমীমাংসিত রহস্যের নাম। অতীতে নাসার পাঠানো স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন মুখরোচক দাবি উত্থাপিত হয়েছে, যার সিংহভাগই পরবর্তীকালে বিজ্ঞানীদের যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যায় খণ্ডিত হয়েছে। তবে এবার সিডোনিয়া অঞ্চলের কিছু অদ্ভুত প্রাকৃতিক পাহাড়ি টিলাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সূচনা হয়েছে। সেখানে অবস্থিত শিলার গঠন মানুষের মুখ, পিরামিড কিংবা প্রাচীন দালানকোঠার ধ্বংসাবশেষের মতো দেখায়—এই চাক্ষুষ মিলই নতুন আলোচনার কেন্দ্রে।

‘অ্যানসিয়েন্ট অ্যালিয়েন্স’ টিভি সিরিজের বিশ্লেষক জেসন মার্টেল দাবি করেছেন, নাসার অরবিটারের তোলা ছবিতে একটি উঁচু পাহাড়ি এলাকা এবং একটি সমতল অববাহিকার মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমানা রেখা ধরা পড়েছে। তাঁর মতে, এটি কোনো প্রাচীন জলাশয়ের তীররেখা বা কোস্টলাইন হতে পারে। এই সীমানা ধরে রহস্যময় কাঠামোগুলোর বিন্যাস পৃথিবীর প্রাচীন ও আধুনিক উপকূলীয় নগরগুলোর গড়ে ওঠার ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।

মার্টেল তার ব্লগে এই অনুমিত বসতিকে ভেনিস, আলেকজান্দ্রিয়া, আমস্টারডাম, সিঙ্গাপুর, দুবাই ও ম্যানহাটনের মতো পানিকেন্দ্রিক শহরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, মানুষের মুখসদৃশ শিলাগঠনটি এমন স্থানে অবস্থিত, যেখান থেকে পুরো জলাশয় ও পাশের নগর নজরদারি করা সম্ভব—এমন একটি কৌশলগত অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যদিও মানব সভ্যতায় পানি, বাণিজ্য ও যাতায়াতের সুবিধার্থে নদী বা সাগরের তীরে নগর গড়ে তোলার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, মঙ্গলের ক্ষেত্রে এই তুলনা সম্পূর্ণ অনুমানভিত্তিক বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

তবে বিজ্ঞানীরা এই দাবির পেছনের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, অববাহিকার একটি অংশ সমতল হওয়ার মানেই সেখানে অতীতে কোনো সাগর বা হ্রদ ছিল—এমন কোনো প্রমাণিত তথ্য নেই। পুরো বিষয়টি ভৌগোলিক বিশ্লেষণের পরিবর্তে কেবল দৃষ্টিকোণের ওপর নির্ভর করে উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়া কোনো শিলাখণ্ড দেখে মানুষের মস্তিষ্ক পরিচিত অবয়ব বা মুখ খুঁজে পাওয়ার প্রবণতাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘প্যারেডোলিয়া’ বলা হয়, যা এখানেও কার্যকর হতে পারে।

মার্টেল নিজেও জানিয়েছেন, তিনি কোনো ভূতত্ত্ববিদ নন। এই ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তনগুলো সত্যিই জলের কারণে ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অপরিহার্য। রাসায়নিক বা শিলাগত কোনো প্রমাণ ছাড়া এই দাবিকে মহাকাশপ্রেমীদের কাল্পনিক ব্যাখ্যা হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটি ডেইলি মেইলের সূত্রে প্রকাশিত।