বিশ্বব্যাপী হিউম্যানয়েড রোবটের বাজার অভূতপূর্ব গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ৩০ হাজার ইউনিট হিউম্যানয়েড রোবট পাঠানো হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০০ শতাংশ বেশি। এই তথ্য জানিয়েছে তিনটি পৃথক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যাদের হিসাব প্রায় একই রকম।
বিভিন্ন শিল্পখাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধি এই চালান বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উৎপাদন কারখানা, গুদাম ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে মানুষের পাশাপাশি কাজ করার জন্য এই রোবটগুলো তৈরি করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরে এই সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়তে পারে, কারণ কোম্পানিগুলো শ্রম খরচ কমানো ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে রোবটিক্স সমাধানের দিকে ঝুঁকছে।
তবে, এই দ্রুত সম্প্রসারণের মধ্যে কিছু সূক্ষ্ম বিষয়ও উঠে এসেছে। সূত্রগুলো বলছে, যদিও সামগ্রিক চালানের সংখ্যা আকাশচুম্বী, তবে এই রোবটগুলোর প্রায় অর্ধেকই উত্তর আমেরিকা এবং পূর্ব এশিয়ার বড় প্রযুক্তি ও অটোমোবাইল কোম্পানিগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। ইউরোপ এবং অন্যান্য অঞ্চলে এই প্রযুক্তি গ্রহণের গতি তুলনামূলকভাবে ধীর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগের পরিমাণ, নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর অবস্থান — এই তিনটি বিষয় মিলে একটি অঞ্চলে হিউম্যানয়েড রোবটের প্রসারের হার নির্ধারণ করে।
চালান বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তির উন্নতিও ঘটছে। নতুন প্রজন্মের হিউম্যানয়েড রোবটগুলো আগের মডেলের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষম — এরা জটিল কাজ শিখতে পারে, পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং মানুষের সঙ্গে আরও স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করতে পারে। এর ফলে শুধু শিল্পকারখানাই নয়, বাণিজ্যিক ও গার্হস্থ্য ক্ষেত্রেও এই রোবটগুলোর ব্যবহার শুরু হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানগুলো অবশ্য সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে হলে সরবরাহ শৃঙ্খল ও ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নয়ন জরুরি। উচ্চ খরচ এবং পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মীর অভাব — এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা গেলে হিউম্যানয়েড রোবটের বাজার আগামী দশকে আরও বড় আকার ধারণ করবে বলে তারা মনে করছে।




