চ্যাটজিপিটি নির্মাতা সংস্থা ওপেনএআই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নগতি সাময়িকভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ব্যাখ্যা করেছে যে, মডেলের সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রাও সমানতালে বাড়ছে। এ কারণেই নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নজরদারি জোরদার করতে পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের পদ্ধতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য এআই মডেলের পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের ‘অ্যাস্ট্রা’ নামের মডেলের প্রশিক্ষণও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওপেনএআইয়ের মতে, যত উন্নত ও জটিল মডেল তৈরি হচ্ছে, তাদের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকিও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির ব্যবস্থাও একই সঙ্গে উন্নত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করতে মডেলগুলোর ওপর এখন আরও কঠোর ও বিস্তারিত পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। নজরদারির মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মডেলগুলোর সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে নতুন ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সাইবার নিরাপত্তাজনিত ঘটনাগুলোর পর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে এআই মডেলগুলো মানুষের নজরদারিতে যথাযথভাবে সাড়া দেয় এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্য ও নীতিমালা অনুযায়ী নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে।

এই পরিবর্তনের আওতায় সংস্থাটির সবচেয়ে বড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে। বড় পরিসরে প্রশিক্ষণ চালানোর পরিবর্তে বর্তমানে ছোট পরিসরে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব ছোট পরিসরের পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে—মডেল কীভাবে আচরণ করছে, নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রত্যাশিতভাবে কাজ করছে কি না এবং মডেল নির্ধারিত লক্ষ্য ও নীতিমালা মেনে চলছে কি না। পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের পরই বড় পরিসরের প্রশিক্ষণ পুনরায় শুরু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত কয়েক বছরে নতুন এআই মডেল তৈরি ও বাজারে নতুন পণ্য আনার ক্ষেত্রে ওপেনএআই দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে উন্নয়নের গতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সেই গতি সাময়িকভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বড় পরিসরের প্রশিক্ষণ কবে আবার শুরু হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি সংস্থাটি।

ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান মিয়া গ্লিজ জানিয়েছেন, সবকিছু পুনরায় স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনতে এখনও অনেক সময় বাকি। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া দ্রুতগতির অগ্রগতি টেকসই হতে পারে না। ফলে আপাতত ধীর, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই প্রতিবেদনের তথ্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাতে প্রকাশিত হয়েছে।