নেত্রকোনা সদর উপজেলার হরিখালি খাল এলাকায় মঙ্গলবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে এক মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির শেখ। নিহত সাব্বির নেত্রকোনা শহরের মেছুয়াবাজারের দোকানি নাদিম শেখের পুত্র। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন বিকেলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল মোটরসাইকেলে করে মাদকবিরোধী অভিযানে বের হয়েছিল। নয় সদস্যের এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা ডিবির (পশ্চিম) উপপরিদর্শক (এসআই) রাজন মিয়া। নেত্রকোনা-আমতলা সড়কের হরিখালি খালের কাছে পৌঁছালে তারা সাব্বিরসহ কয়েকজনকে আড্ডা দিতে দেখতে পান। দূর থেকে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই দলটি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। তাড়াহুড়োয় সাব্বিরসহ কয়েকজন খালের পানিতে পড়ে যান। অন্যরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও সাব্বির সাঁতার না জানায় পানিতে ডুবে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে সড়কের পাশে নিয়ে আসেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাজহারুল আমিন জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সাব্বিরকে হাসপাতালে আনা হলে ইসিজি পরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার শরীরের পোশাক তখনও ভেজা ছিল। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। সাব্বিরের বোন পূর্ণিমা আক্তার অভিযোগ করেন, তার ভাই নিয়মিত বাবার দোকানে বসতেন এবং ঘটনার দিন তিনটার দিকে দোকান বন্ধ করে এক বন্ধুকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। তিনি দাবি করেন, ডিবি পুলিশের উপস্থিতি দেখে দৌড় দেওয়ার সময় সাব্বির পানিতে পড়ে মারা যান, যদিও তিনি কোনো অপরাধমূলক কাজে জড়িত ছিলেন না এবং কোনো মামলার আসামিও ছিলেন না। পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে। এসআই রাজন মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। জেলা ডিবির পরিদর্শক দেবাংশু কুমার দেব জানান, তিনি জেলার বাইরে থাকায় বিস্তারিত জানেন না, তবে শোনা ঘটনায় পুলিশের কোনো দোষ দেখছেন না। জেলা পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম জানান, কেন ওই যুবকেরা পুলিশ দেখে দৌড় দিয়েছিলেন, তারা মাদকসংশ্লিষ্ট কোনো কার্যকলাপে জড়িত ছিল কি না এবং কীভাবে সাব্বিরের মৃত্যু ঘটেছে—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে।