বুধবার (৪ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। এই দিবস ঘিরে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিবসটি উপলক্ষে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও সাইবার প্যাট্রোলিংয়ের মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন করে আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং আগাম তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম জোরদার করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানস্থল, রোডমার্চ ও পদযাত্রার নির্ধারিত রুট এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে ৩ আগস্ট রাত থেকেই বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পোশাকধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদাপোশাকে র্যাব সদস্যরা নজরদারি চালাবেন। উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠন বা রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও দাবি র্যাবের। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধে সাইবার টহলও বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজধানীতে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার ডিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মহানগরজুড়ে পিকেট ও তল্লাশিচৌকির তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে নগরের সব প্রবেশপথে জোরদার তল্লাশি চালানো হবে। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা সাদাপোশাকে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে দায়িত্ব পালন করবেন। যেসব স্থানে জনসমাগম বেশি হবে, সেখানে সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ও ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে বিশেষ তল্লাশি চালানো হবে। সব অনুষ্ঠানস্থল ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সংখ্যক কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি র্যাব ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যৌথভাবে মহানগরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে থেকে দায়িত্ব তদারকি করবেন।
এদিকে, পুলিশের যানবাহনে হামলার আশঙ্কায় আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। গত শনিবার (৩১ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশব্যাপী এ সতর্কতা জারি করে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়। দায়িত্বরত অবস্থায় কোনো সরকারি যানবাহন থামানোর প্রয়োজন হলে তা নিরাপদ স্থানে পার্কিং করার এবং দায়িত্ব শেষে থানা, পুলিশ লাইনস বা অফিস কম্পাউন্ডে রাখা যানবাহনের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচ থেকে একটি ছাতার ভেতরে রাখা বোমা উদ্ধার করা হয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে সন্দেহজনক বস্তা ও সর্বশেষ মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে সন্দেহজনক ব্যাগ ও বস্তা পাওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায়। যদিও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল পরীক্ষা করে জানায়, এতে কোনো বিস্ফোরক ছিল না। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই পুলিশ সদর দপ্তর সতর্কবার্তা জারি করে বলে জানা গেছে।




