আগামী ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ম্যাজিক্যাল নাইট ২.০’ কনসার্টে অংশ নিতে চলেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ‘লেটস ভাইব আর্ট অ্যান্ড মিউজিক ফেস্টিভ্যাল’ শিরোনামের উৎসবে ঢাকার মঞ্চ মাতিয়েছিলেন তিনি। তার গানের প্রতি দেশের তরুণ-তরুণীদের অগাধ ভালোবাসা লক্ষণীয়।
রণবীর কাপুর ও ক্যাটরিনা কাইফ অভিনীত ‘আজব প্রেম কি গজব কাহানি’ সিনেমার ‘তেরা হোনে লাগা হুঁ’ ও ‘তু জানে না’ গান দুটি আতিফের কণ্ঠে দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও গান দুটির আবেদন কমেনি। এই দুই গানের মধ্যেই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সত্তা। প্রথমটিতে আনন্দের সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে দ্বিতীয়টিতে বেদনার ছোঁয়া। আনন্দ-বেদনা উভয় আবেগ নিজ কণ্ঠে ধারণ করে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
আতিফ আসলামের জন্ম ১৯৮৩ সালের ১২ মার্চ পাকিস্তানের ওয়াজিরাবাদে। বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করলেও ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখতেন ক্রিকেটে। তবে ক্রিকেটার না হয়ে তিনি বেছে নেন সংগীতের পথ। ২০০৪ সালে ‘জলপরি’ অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীত জগতে পদার্পণ করেন। অ্যালবামটির গান ভালো লেগে যায় পরিচালক মহেশ ভাটের। তার আমন্ত্রণে ২০০৫ সালে ‘জেহের’ ছবির ‘ওহ লমহে’ গান দিয়ে বলিউডে প্লেব্যাক শুরু করেন। এই গান ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছিল।
বলিউডে আরও অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন আতিফ। আব্বাস-মাস্তানের ‘রেস’ ছবির ‘পেহলি নজর ম্যায়’ ও ‘কলিযুগে’র ‘আদাত’ গান দুটি আজও শ্রোতাদের মনে দোলা দেয়। ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছবিতে সালমান খানের হয়ে প্রথম প্লেব্যাক করেন তিনি। প্রীতমের সুরে ‘তু চাহিয়ে’ গানটি শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ চলচ্চিত্রের ‘দিল দিয়া গল্লা’ গানটির ভিউ ইউটিউবে ৭৯৩ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে।
আতিফ আসলাম শুধু উর্দুতে নন, হিন্দি, পাঞ্জাবি, বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় গেয়েছেন। তার গানের বৈশিষ্ট্য হলো আবেগের গভীরতা ও বৈচিত্র্য। সিনেমার গানগুলো বেশিরভাগ সময় দৃশ্যনির্ভর হলেও তার কণ্ঠের মায়ায় সেগুলো অমর হয়ে যায়। প্রেম, বিরহ, ভালোবাসার মতো বিষয়গুলো তরুণ প্রজন্মের কাছে সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আতিফের গান তাই তাদের মনের ভাষা হয়ে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার গানের রিল ও ভিডিও নিয়মিত ভাইরাল হয়। ইউটিউব ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তার গানের অনুরাগী ছড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী।
২০১১ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘বল’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে সিনেমা জগতেও পা রাখেন আতিফ। তবে তার মূল পরিচয় সংগীতশিল্পী হিসেবেই। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ধারাবাহিক সাফল্য ও ভাগ্যের সহায়তা তাকে শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। একটি গান তৈরিতে কথার মাধুর্য, সুরের মোহনীয়তা ও শিল্পীর নিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আতিফের গানে এই সবকিছুর সমন্বয় ঘটে বলেই তিনি আজ সুপারস্টার।


