বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম ব্যাংক হিসেবে ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার মূলধনে পৌঁছানোর পথে জেপি মরগান চেজ। সোমবার সকালে প্রতিষ্ঠানটির মূল্য প্রায় ৯৭০ বিলিয়ন ডলার ছিল, যা সামান্য বাজার উত্থানেই ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর, অর্থাৎ জেমি ডাইমনের দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে ব্যাংকটির মূল্য ছিল মাত্র ১৩৮ বিলিয়ন ডলার। গত মাসেই মার্কিন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক মুনাফা অর্জনের রেকর্ড করেছে জেপি মরগান।
সিইও জেমি ডাইমনের দুই দশকের দীর্ঘ কৌশলেরই ফসল এই ট্রিলিয়ন ডলারের পথে যাত্রা। সংকট মোকাবিলায় আর্থিক সক্ষমতা ধরে রাখা, প্রতিযোগীরা পিছু হটলে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া এবং শিল্পের অস্থিরতার সময় সম্প্রসারণ — এই তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে ডাইমনের খেলার কৌশল। এই সংমিশ্রণই বারবার জেপি মরগানকে সুযোগ দিয়েছে আক্রমণাত্মক ভূমিকা নেওয়ার, যখনই প্রতিযোগীরা চাপে পড়েছে।
২০০৮ সালের আর্থিক সংকটে বিয়ার স্টার্নস ও ওয়াশিংটন মিউচুয়ালকে অধিগ্রহণ এবং ১৫ বছর পর আঞ্চলিক ব্যাংক সংকটে ফার্স্ট রিপাবলিককে কেনা — এই সবকিছুর পেছনে ছিল ডাইমনের তথাকথিত 'দুর্ভেদ্য ব্যালেন্স শিট'। তবে জেপি মরগানের সুবিধা শুধু অধিগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
ওয়েলস ফার্গোর বিশ্লেষক মাইক মায়ো বলছেন, জেপি মরগানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো শাখা, ব্যাংকার ও প্রযুক্তিতে বিপুল ব্যয় করার সামর্থ্য, যা থেকে আবার বাড়তি প্রবৃদ্ধি পেয়ে আরও বেশি বিনিয়োগ করা যায়। এই 'ফ্লাইহুইল' প্রভাবই গ্রাহক ব্যাংকিং, বিনিয়োগ ব্যাংকিং, ট্রেডিং এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় জেপি মরগানকে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। মায়োর মতে, 'উচ্চতর প্রবৃদ্ধির জন্য সেরা বিনিয়োগ ক্ষমতা' কাজে লাগিয়ে আগামী সাত-আট বছরের মধ্যে ব্যাংকটি ২ ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্যে পৌঁছাতে পারে।
তবে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পথ মসৃণ নয়। মায়ো উল্লেখ করেছেন, বিগত এক দশকে 'প্রকৃত' মন্দা দেখা যায়নি এবং অস্বাভাবিকভাবে চাঙ্গা বাজার পুরো শিল্পের রাজস্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার আর্থিক সংকটের পর থেকে এখন জেপি মরগানের ফরোয়ার্ড আর্নিংস মাল্টিপল সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি, ফলে মুনাফার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার চাপও বেড়েছে। মায়োর হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় বছরে জেপি মরগানের বাজার মূল্য বৃদ্ধির দুই-তৃতীয়াংশ এসেছে শেয়ারপ্রতি আয় দ্বিগুণ হওয়া থেকে, আর বাকি এক-তৃতীয়াংশ এসেছে শেয়ারের উচ্চতর মাল্টিপল পাওয়া থেকে।
জেপি মরগানের এই সুবিধা আসলেই প্রাতিষ্ঠানিক কিনা, তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে ডাইমনের বিদায়ের পর। ২০০৬ সাল থেকে জেপি মরগানের নেতৃত্বে থাকা ৭০ বছর বয়সী ডাইমনের উপস্থিতিতে শেয়ার বাজারে সবসময় ১০-১৫ শতাংশ 'জেমি প্রিমিয়াম' যুক্ত হয়েছে। মায়ো বলছেন, টেকসই পারফরম্যান্সের জন্য জেপি মরগানের সংস্কৃতি ও ব্যবস্থাপনার শক্তি ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি এবং উত্তরাধিকারের প্রশ্নটি সামনে আসবেই। কারা ডাইমনের স্থলাভিষিক্ত হবেন, তা মার্কিন কর্পোরেট জগতের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্নগুলোর একটি। সম্প্রতি ম্যারিয়েন লেক প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর সহ-সভাপতি ডগ পেটনো ও ট্রয় রোরবাউকে এই দৌড়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।




