সপ্তাহজুড়ে চলা র্যালির পর সোমবার স্পেসএক্সের শেয়ারদর ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রায় ১৫০ ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে এলন মাস্কের নিট সম্পদ আবারও ৯০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের পর এই উত্থান ঘটে। গত ৩ আগস্ট ১০৪ ডলারের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকে স্পেসএক্সের শেয়ার প্রায় ৮৭ শতাংশ বেড়েছে।
এই শেয়ার উত্থানের ফলে মাস্কের সম্পদে ৪৭.৭ বিলিয়ন ডলার যোগ হয়, যা তার মোট সম্পদকে ৯১১.৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির তালিকায় তিনি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন, তার পরেই অবস্থান গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের (২৮১.৪ বিলিয়ন ডলার) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন অ্যামাজনের জেফ বেজোস (২৬৮.৮ বিলিয়ন ডলার)।
শুক্রবার ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিজেদের অংশীদারত্ব প্রকাশের শেষ দিন। হার্ভার্ডের এনডাওমেন্ট তহবিল স্পেসএক্সে প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্বের কথা জানায়, যা প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় স্টক হোল্ডিং। এনভিডিয়া ১২২.৮ মিলিয়ন শেয়ার অর্থাৎ প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব ঘোষণা করে। ব্ল্যাকরক ৮.৭ বিলিয়ন ডলার এবং ফিডেলিটি ৫১.৬ বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব প্রকাশ করেছে। গিগাফান্ড ম্যানেজমেন্ট ২৯.৩ বিলিয়ন ডলারের হোল্ডিং দেখিয়েছে।
বেশ কয়েকজন বিলিয়নিয়ারও স্পেসএক্সে তাদের বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ করেছেন। জোশ কুশনারের থ্রাইভ ক্যাপিটাল ৩.২ বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব দেখিয়েছে। পিটার থিয়েলের ফাউন্ডার্স ফান্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন সত্ত্বাগুলো প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব ঘোষণা করেছে, যারা এই রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জিনা রাইনহার্টের মালিকানাধীন খনির প্রতিষ্ঠান হ্যানকক প্রসপেক্টিং ১.৩ বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব দেখিয়েছে।
জুলাই মাসে মাস্কের সম্পদ ৭০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল, যা ডিসেম্বরের পর প্রথমবারের মতো এই সীমার নিচে নামা। স্পেসএক্সের শেয়ার ১৬ জুনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ায় এমনটি ঘটেছিল। ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে মাস্কের সম্পদ ১.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রায় ৭৫০ বিলিয়ন ডলার কমে যায়।
তবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকে স্পেসএক্সের শেয়ার পুনরুদ্ধার হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম আয়ের প্রতিবেদন ওয়াল স্ট্রিটের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথম আয় প্রকাশের পর শেয়ার ১৩ শতাংশ কমলেও মরগান স্ট্যানলি, ওপেনহেইমার ও ক্যান্টরসহ বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান কোম্পানিটির আর্থিক সাফল্যের প্রশংসা করেছে। তারা মনে করছে, স্পেসএক্সের এআই ব্যবসা ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জেপি মরগানের বিশ্লেষকরা লিখেছেন, স্পেসএক্স 'চরম উল্লম্ব সংহতকরণ' থেকে সুবিধা পাচ্ছে এবং এআই পরিবর্তনের গতি অবিশ্বাস্যভাবে দ্রুত। তাদের মতে, এআই অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উচ্চতর নগদীকরণ ২০২৭ সালের মধ্যে স্পেসএক্সের এআই রাজস্ব ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দিতে পারে।




