চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রকযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শহীদ আবু সাঈদ হলের ক্যানটিনে পরিবেশিত তেহারির ভেতর ইটের টুকরা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গতকাল মঙ্গলবার রাতে ক্যানটিনে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং স্বাস্থ্যকর ও মানসম্পন্ন খাবার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা খাবারের জন্য ক্যানটিনের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই ক্যানটিনের খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে নানাবিধ অভিযোগ জমা হচ্ছিল। সর্বশেষ রাতের খাবারের সময় একজন শিক্ষার্থীর পাতে তেহারির সঙ্গে ইটের টুকরা পাওয়া যায়, যা পুরো ঘটনার সূত্রপাত করে। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও খাবারে পোকামাকড় ও বস্তার সুতা পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীরা আরও বলছেন, অনেক সময় চিকেন ফ্রাইয়ের ভিতরটা কাঁচা থাকে, নষ্ট ময়দা দিয়ে পরোটা তৈরি হয় এবং আগের দিনের বিক্রি না হওয়া পরোটা, সিঙাড়া ও পেঁয়াজু সংরক্ষণ করে পরদিন গরম করে বিক্রি করা হয়। একই সাথে, রান্নার ঘর ও চা প্রস্তুত করার জায়গায় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশেরও অভাব আছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

শহীদ আবু সাঈদ হলের শিক্ষার্থী তুসার আহমেদ প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, দৈনন্দিন আহারের জন্য তারা ক্যানটিনের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু তেহারিতে ইটের টুকরা পাওয়ার মতো ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বহুবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি, তাই বাধ্য হয়েই তারা ক্যানটিনে তালা লাগিয়েছেন। যতক্ষণ না নিরাপদ ও মানসম্মত খাবারের নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ এই অবস্থান চলবে।

শিক্ষার্থীরা ক্যানটিনের খাবারের মান ও দাম নিয়ে একগুচ্ছ দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, হল প্রশাসন অথবা ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত একটি মূল্যতালিকা প্রকাশ ও বাস্তবায়ন, রান্নার স্থান ও চা তৈরির জায়গার সংস্কার, খাবারের গুণগত মান ও মূল্যের উপর নিয়মিত নজরদারি, এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, হল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন।

ঘটনার ব্যাখ্যায় হল ক্যানটিনের ইজারাদার মো. শাহীন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, বেশ কয়েকদিন ধরে গ্যাসের সমস্যার কারণে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি রান্নাঘরে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে এবং স্থানটি অত্যন্ত সীমিত। তিনি ধারণা করেন, এই অবস্থার মধ্যে কারও অনিচ্ছাকৃত অসাবধানতায় হয়তো এ রকম একটি ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ বিষয়ে শহীদ আবু সাঈদ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আজাদ হোসাইন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত ক্যানটিনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তিনি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্যানটিন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পূর্বেও অভিযোগ এসেছিল। খাবারের মান নিয়ে কোনো রকম আপোশ গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মান নিশ্চিত করার শর্তসাপেক্ষেই কেবল ক্যানটিন পুনরায় চালু করার অনুমতি দেওয়া হবে। প্রভোস্ট আরও বলেন, তারা সরেজমিনে তদন্তের পর সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।