ফেনী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে এই সভায় অংশ নিয়ে পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, পুলিশের চাকরির প্রকৃতি এমন যে যত চেষ্টা করলেও কারোর মন রক্ষা করা সম্ভব হয় না। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমাদের পুলিশের চাকরি মনে হয়, “জন্মই আমাদের আজন্ম পাপ।”’ শহীদ পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা সমালোচনা তুললে এ কথা বলেন তিনি। প্রত্যুষ কুমার মজুমদার আরও জানান, তিনি মাত্র দুই মাস আগে ফেনীতে যোগ দিয়েছেন। তার আগে আরও দুজন পুলিশ সুপার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দাবি করেন, ফেনীতে জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের হওয়া ২২টি মামলার মধ্যে ১৪টির অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় ১ হাজার ২০০–এর বেশি আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে এর মধ্যে ৮৬০ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকালে শহরের মুক্তবাজার এলাকায় অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মনিরা হক পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে পুলিশ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা পরিষদ, সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ খালেক। জেলা কালচার অফিসার সুদীপ্তা চক্রবর্তী ও আশরাফুল হক সঞ্চালনা করেন। বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল হান্নান, বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও প্রায় পাঁচ শতাধিক জুলাই যোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।