নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায় ফরম পূরণের সময় প্রতারণার শিকার আটজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো দূর হয়নি। কলেজের এক অফিস সহায়কের প্রতারণার কারণে তারা পরীক্ষার প্রথম দিনেই অংশ নিতে পারেননি। পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বাকি সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও প্রথম দিনের পরীক্ষা সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি।
গত মঙ্গলবার এইচএসসি লিখিত পরীক্ষার সমাপ্তি দিনে লালপুরের আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা এই অনিশ্চয়তার কথা জানান। তারা বলেছেন, এখন পর্যন্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পরীক্ষা আদৌ হবে কিনা, হলে কবে এবং কীভাবে হবে—এসব বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞ।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ইসরাত জাহানের বাবা ইমামুল হক জানান, তার মেয়েসহ আটজনের কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা নিয়েছিলেন কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার। কিন্তু তিনি সেই টাকা শিক্ষা বোর্ডে জমা না দেওয়ায় কারও প্রবেশপত্র আসেনি। ফলে প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় তারা অংশ নিতে পারেনি। বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর নজরে এলে তাঁর হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীদের বাকি পরীক্ষাগুলো দেওয়ার সুযোগ করে দেয় বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
ইমামুল হক আরও বলেন, মঙ্গলবার লিখিত পরীক্ষা শেষ হলেও বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা নিয়ে এখনো কলেজ বা বোর্ড কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামদুদুর রহমান বলেন, তিনি বিষয়টি বোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে আলোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ এখনো সরকারি সিদ্ধান্ত পায়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে পরীক্ষার্থীদের জানানো হবে।
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীম আরা চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরীক্ষার্থীদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, যাই হোক, সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক হবে এবং তাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
এর আগে ৩ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হস্তক্ষেপে ওই আট শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। একই দিনে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে প্রথম আলোতে ৩ জুলাই ‘শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সেই আট শিক্ষার্থী’ এবং ৪ জুলাই ‘নাটোরে ফরম পূরণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অফিস সহায়ক গ্রেপ্তার’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।




