সাম্প্রতিক এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়েছে। এসব বিষয়বস্তু নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে প্রথম আলোর ফ্যাক্টচেক টিম অনুসন্ধান চালিয়েছে। দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিগুলোর অধিকাংশই ভিত্তিহীন বা পুরোনো ঘটনার সঙ্গে বর্তমান আন্দোলনের মিল নেই।

প্রথম বিভ্রান্তিকর পোস্টটি ছিল একটি ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও, যেখানে দাবি করা হয় যে পুলিশের একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শাসাচ্ছেন। ভিডিওটির ওপরের ডান কোণে ‘my chandina’ লোগো ছিল। অনুসন্ধানে দেখা যায়, মূল ভিডিওটি ২৬ মে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তোলা। সেদিন গাড়িচালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক সংস্কারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। দাউদকান্দি মডেল থানার বর্তমান ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় দাউদকান্দির সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও তৎকালীন ওসি মো. আবদুল বারিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা গিয়ে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেন। সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দেওয়ার পর আন্দোলন শেষ হয়। এই ঘটনা দেড় মাস আগের, বর্তমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

দ্বিতীয় ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যায়, কিছু যুবক একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে লাথি মারছেন। ক্যাপশনে দাবি করা হয় যে ওই ব্যক্তি একজন পথচারী, যাকে আন্দোলনকারী এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা মারধর করছে। কিন্তু যাচাই করে দেখা যায়, ভিডিওটি ১৩ জুলাই বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় ধারণ করা। ওই দিন এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে মোবাইল চুরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন ওই ব্যক্তি। বগুড়া সদর নিউজ পেজের অ্যাডমিন আমিনুর ইসলাম এবং সাংবাদিক আলী হায়দার মিঠু নিশ্চিত করেছেন, এটি চোরকে মারধরের ঘটনা। বগুড়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয় ১৪ জুলাই, ফলে এই ভিডিওর সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সংযোগ নেই বলে জানান বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী।

তৃতীয় বিভ্রান্তিকর উপাদানটি ছিল একটি ছবি, যেখানে একজন শিক্ষার্থীর হাতে ‘শেখ হাসিনাকে আমরা আবার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন দেখাতে এই ছবি ছড়ানো হয়। কিন্তু প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে ১৫ জুলাই প্রকাশিত আন্দোলনের আসল ছবিগুলোতে ওই প্ল্যাকার্ডের অস্তিত্ব নেই। ইমেজ হুইস্পারারসহ এআই শনাক্তকারী টুলে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্ল্যাকার্ডের অংশটি ডিজিটালি সম্পাদনা করে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রথম আলোর ফ্যাক্টচেক টিমের অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, এই ভিডিও ও ছবিগুলো শতাধিক পেজ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একই দাবিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে অনেকে পুলিশের সমালোচনা করছেন এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে। তবে বাস্তব ঘটনা ভিন্ন বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রতিবেদন তৈরিতে বগুড়া ও কুমিল্লায় প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করেছেন।