সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যা প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে মেলেনি বলে নিশ্চিত হয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পুলিশ জানিয়েছে, এসব ভিডিও ও ছবি পুরনো বা ডিজিটালি সম্পাদিত।
প্রথম ঘটনাটি ২৬ মে কুমিল্লার দাউদকান্দির। সেদিন সড়ক সংস্কারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় গাড়িচালক ও বাসিন্দারা। ওই সময় দাউদকান্দি মডেল থানার তৎকালীন ওসি মো. আবদুল বারী ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেন। সেদিনের ওই ঘটনার একটি ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ বর্তমানে কেটে ২৫ সেকেন্ড করে ছড়ানো হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে ওসি আন্দোলনরত এইচএসসি শিক্ষার্থীদের শাসাচ্ছেন। বর্তমান ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয় ১৪ জুলাই, যা দেড় মাস আগের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
দ্বিতীয় ভিডিওটি বগুড়ার। ১৩ জুলাই শহরের সাতমাথা এলাকায় এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় একজনকে হাতেনাতে ধরা হলে স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর করেন। সেই দৃশ্যের ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিও কেটে ৬ সেকেন্ড করে ছড়ানো হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে আন্দোলনরত এইচএসসি শিক্ষার্থীরা এক পথচারীকে পিটিয়েছে। বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী নিশ্চিত করেছেন, ওই ঘটনার সঙ্গে চলমান আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। পকেটমার ধরার পর তাকে মারধরের দৃশ্যই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে।
এ ছাড়া ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সৈনিক’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়, যেখানে একজন শিক্ষার্থীর হাতে ‘শেখ হাসিনাকে আমরা আবার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যাচ্ছে। কিন্তু যাচাইয়ে দেখা গেছে, এটি এআই টুলের মাধ্যমে সম্পাদিত। ইমেজ হুইস্পারারসহ বিভিন্ন শনাক্তকারী টুলে পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্ল্যাকার্ডের অংশটি ডিজিটালি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ছবিতে শিক্ষার্থীদের হাতে কোনো প্ল্যাকার্ড ছিল না। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আছেন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ রয়েছে। সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, তাঁর পক্ষে বর্তমান আন্দোলনে সমর্থন তোলার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
পুলিশ বলছে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে পুরনো ও অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও এবং এআই সম্পাদিত ছবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।




